সন্ধ্যায় বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৬ নভেম্বর- চট্টগ্রাম নগরে বিএনপি মনোনীত প্রার্থীর নির্বাচনী জনসংযোগে হঠাৎ গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। নিহতের নাম সরোয়ার হোসেন বাবলা (৪৩), যিনি জনসংযোগে অংশ নেওয়া কর্মীদের মধ্যে ছিলেন। গুলিতে বিএনপি প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।
সন্ধ্যার পরপরই চট্টগ্রাম–৮ আসনের বিএনপি প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ কর্মীদের নিয়ে প্রচারপত্র বিলি করছিলেন। হঠাৎ এক যুবক জনতার ভিড়ে ঢুকে সরোয়ারের ঘাড়ে পিস্তল ঠেকিয়ে গুলি করেন। মুহূর্তেই টানা সাত থেকে আট রাউন্ড গুলি চলে। সঙ্গে সঙ্গে ছত্রভঙ্গ হয়ে যান নেতা–কর্মীরা।
গুলিবিদ্ধদের মধ্যে এরশাদ উল্লাহর পেটে ছররা গুলি লাগে, তবে তিনি শঙ্কামুক্ত বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকেরা। আহত অন্যদের মধ্যে রয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক ইরফানুল হক শান্ত, বিএনপি কর্মী আমিনুল হক ও মুর্তজা হক। ইরফানুলের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

নিহত সরোয়ার হোসেন বাবলা। ছবিঃ সংগৃহীত
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীদের ভিড়ে এরশাদ উল্লাহর পাশে দাঁড়িয়ে আছেন সরোয়ার। ঠিক তখনই একজন মুখোশধারী যুবক পেছন থেকে এসে খুব কাছ থেকে গুলি করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা আগে থেকেই বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে মিশে ছিলেন এবং তারা একটি মাইক্রোবাসে করে আসে।
পুলিশ জানিয়েছে, সরোয়ারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও হত্যাসহ ১৫টি মামলা রয়েছে। এলাকার আধিপত্য নিয়ে বিদেশে পলাতক সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলীর সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের বিরোধ ছিল। গত ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকায় সরোয়ারকে লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছিল। সেদিন দুজন নিহত হলেও তিনি বেঁচে যান।
আহত ইরফানুলের খালাতো ভাই আবদুর রশিদ বলেন, “মাগরিবের নামাজের পর মসজিদের পাশে জনসংযোগ করছিলাম। হঠাৎ কয়েকজন মাস্ক পরা যুবক এসে সরোয়ারের ঘাড়ে গুলি করে। তখন সবাই দৌড়াদৌড়ি শুরু করে। পরে দেখি সরোয়ার মাটিতে পড়ে আছেন।”
নিহতের ভাই আজিজ হোসেন জানান, সন্ত্রাসী সাজ্জাদের লোকজন অনেক দিন ধরে সরোয়ারকে হত্যার হুমকি দিয়ে আসছিল। সপ্তাহ পার না হতেই ফোন করে হুমকি দিত, “যা খাও খেয়ে নে।” তিনি বলেন, “এরশাদ উল্লাহর জনসংযোগে নিরাপত্তা থাকবে ভেবেই আমার ভাই গিয়েছিল।”

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গণসংযোগের সময় গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। ছবিঃ সংগৃহীত
আজিজের অভিযোগ, ছোট সাজ্জাদের সহযোগী রায়হানসহ কয়েকজন এই হামলায় সরাসরি অংশ নিয়েছেন। তিনি আরও জানান, সরোয়ার এক মাস আগে বিয়ে করেছিলেন এবং তার বিয়েতেও এরশাদ উল্লাহসহ বিএনপির কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন। গত বছর আগস্টে কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়ে তিনি দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয় ছিলেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এ ঘটনায় বিএনপির কোনো সম্পর্ক নেই। জনসংযোগে শত শত মানুষ ছিল। সরোয়ার সেখানে অংশ নিলে সন্ত্রাসী দুই দলের পূর্ববিরোধের জেরে এ ঘটনা ঘটে।”
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, হত্যার মূল লক্ষ্য ছিল সরোয়ার, এরশাদ উল্লাহ নয়। তিনি বলেন, “এই হত্যাকাণ্ডে কারা জড়িত, তার ধারণা আমরা পেয়েছি। অনেকেই জেলে আছে, কেউ কেউ পলাতক। কিলিং মিশনে যারা ছিল, তাদের শনাক্তের মতো আলামতও পাওয়া গেছে।”
কমিশনার জানান, নির্বাচনের আগে এমন সন্ত্রাসী তৎপরতা উদ্বেগজনক। তিনি পরামর্শ দেন, “আগামীতে যেকোনো দল জনসভা বা জনসংযোগ করলে অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে জানাতে হবে, যাতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায়।”
রাত ১১টার দিকে চালিতাতলীর খন্দকারপাড়া এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, দোকানপাট বন্ধ, জনশূন্য রাস্তাঘাটে আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা ভয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। কেউ কেউ বলেন, সাধারণত রাত ১২টা পর্যন্ত দোকান খোলা থাকে, কিন্তু এখন সবাই ঘরবন্দি।
পিবিআইয়ের সদস্যরা রাতেই ঘটনাস্থল থেকে আলামত সংগ্রহ করেন। পুলিশ বলছে, হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে।