তমলুকের সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৭ নভেম্বর- বিজেপি ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তমলুকের সাংসদ ও প্রাক্তন বিচারপতি অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার ‘এবিপি আনন্দ’-এ সম্প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়ানোর মূল লক্ষ্য ছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতা থেকে সরানো, কিন্তু তিনি সেই লক্ষ্যের কাছাকাছিও পৌঁছাতে পারেননি। এর দায় তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের ওপর চাপান।
অভিজিৎ গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, “বাংলার মতো প্রশাসনহীন রাজ্যে কেন ৩৫৫ ধারা জারি করা হলো না, সেটাই আমার কাছে বড় প্রশ্ন।” তাঁর দাবি, কেন্দ্রীয় সরকার পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি পাল্টাতে চায় না। তিনি মনে করেন, পরিবর্তন আনতে হলে ভোটের সময় পুলিশকে কেন্দ্রের নিয়ন্ত্রণে এনে নির্বাচন করতে হবে, যাতে তৃণমূল ভোটারদের বাধা দিতে না পারে। তবে এই পদক্ষেপের পরও পরিবর্তন আসবে কি না, তা নিয়ে তিনি নিশ্চিত নন। তাঁর ভাষায়, “তারপরও যদি তৃণমূল আসে, আসবে।”
অভিজিৎ বাংলার রাজনীতিতে ‘অবাঙালি বিজেপি নেতৃত্বের দাপট’ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “হিন্দি বলয় থেকে নেতা এনে বাংলায় ভোট করানো যাবে না। পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মন, মেজাজ, অভিমান দিল্লির নেতারা বোঝেন না।”
নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তাঁর অভিযোগ, ভোটার তালিকায় অনিয়মের জন্য কমিশন কিছু কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি, তবুও কমিশন রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
প্রাক্তন বিচারপতি শিক্ষায় নিয়োগ দুর্নীতি ও আরজি কর কাণ্ডসহ নানা ইস্যুতে কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা সিবিআই ও ইডির ভূমিকা নিয়েও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তাঁর দাবি, “বড় বড় নেতাদের বিরুদ্ধে গুচ্ছ গুচ্ছ অভিযোগ থাকলেও তদন্ত এগোয় না, হেফাজতে নিয়ে জেরা করা হয় না।” তিনি আরও বলেন, “কিছু সিবিআই-ইডি কর্মকর্তারা বিজেপি-বিরোধী রাজনৈতিক দলের প্রভাবে রয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীকে তাদের কাছ থেকে জবাব চাইতে হবে।”
বিজেপি আদৌ তৃণমূলকে ক্ষমতা থেকে সরাতে চায় কি না, এমন প্রশ্নে অভিজিৎ বলেন, “এটা গভীর প্রশ্ন, আজ সেই প্রসঙ্গে যাচ্ছি না, কিছুদিন পরে হয়তো বলব।”
তাঁর এই মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়েছে বঙ্গ বিজেপি শিবির। এ বিষয়ে দলের বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ বলেন, “যথাযথ স্থানে তিনি মতামত জানালে তা নিয়ে আলোচনা হবে।”
সুত্রঃ আনন্দবাজার পত্রিকা