আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৭ নভেম্বর- গণভোটের দিন নির্ধারণ ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এখনো সমঝোতা না হওয়ায় দুশ্চিন্তায় পড়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। উপদেষ্টাদের ধারণা, সরকারের পক্ষ থেকে সময় বেঁধে দেওয়ার পরও কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় বরং রাজনৈতিক বিরোধ আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে তাঁর কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এ পরিস্থিতি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনা হয়। বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, গণভোটের দিন নির্ধারণ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর অবস্থান বিশ্লেষণ করে কয়েকজন উপদেষ্টা হতাশা প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, এখনকার অবস্থায় দলগুলোর কাছ থেকে ঐক্যবদ্ধ কোনো সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব নয়।

উপদেষ্টা পরিষদ। ছবিঃ সংগৃহীত
এর আগে ৩০ অক্টোবরের বৈঠকেও গণভোট নিয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরে গত সোমবার জরুরি বৈঠকে গণভোটের দিন, জুলাই জাতীয় সনদ এবং আরপিও সংশোধন নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানানো হয়। তবে পাঁচ দিন পার হলেও দলগুলোর মধ্যে দৃশ্যমান কোনো সংলাপ দেখা যায়নি।
সরকারি সূত্র বলছে, এই অচলাবস্থায় সরকার নিজেদের মধ্যে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করছে এবং আশা করছে, দলগুলো শেষ পর্যন্ত নিজেদের মধ্যে সমঝোতায় পৌঁছাবে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো দলই নমনীয় অবস্থান দেখায়নি।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর গতকাল যশোরে এক অনুষ্ঠানে বলেন, সংসদ নির্বাচনের আগে কোনো গণভোট হতে দেওয়া হবে না। অন্যদিকে ঢাকায় ৮ দলীয় জোটের এক কর্মসূচিতে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের বলেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট হবেই। তিনি আরও জানান, বিএনপির সঙ্গে আলোচনার চেষ্টা চলছে, যদিও মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এই উদ্যোগ পুরোপুরি হাস্যকর। জুলাই সনদ নিয়ে অনেক আলোচনার পর সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন নতুন করে চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে তা ব্যর্থ হবে।”
বৈঠকে অংশ নেওয়া দুইজন উপদেষ্টা সমকালকে বলেন, কয়েকজন উপদেষ্টা জাতীয় নির্বাচনের দিনেই গণভোট আয়োজনের প্রস্তাব দিয়েছেন। তবে বিএনপি ও জামায়াতের বিপরীত অবস্থান নিয়ে আশঙ্কাও প্রকাশ করেছেন অনেকে। উপদেষ্টারা মনে করছেন, একদিনে নির্বাচন ও গণভোট হলে প্রশাসনিক জটিলতা ও সহিংসতা বাড়তে পারে। কেউ কেউ বলেছেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজন করা হলে অস্থিতিশীলতা দেখা দিতে পারে।
এছাড়া উপদেষ্টারা প্রশ্ন তুলেছেন, নির্বাচন কমিশনের বর্তমান সক্ষমতা কি একযোগে নির্বাচন ও গণভোট আয়োজনের জন্য যথেষ্ট? কেউ কেউ মত দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার যদি নিজ উদ্যোগে গণভোট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত জনগণের কাছে স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানান, “অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা চলছে। যদি রাজনৈতিক দলগুলো সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে অন্তর্বর্তী সরকারই প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবে। তবে আমরা এখনও আশা করছি, দলগুলো নিজেরা আলোচনার মাধ্যমে সমঝোতায় আসবে।” তিনি আরও বলেন, “নির্বাচনের পর্যায় এখন এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে পুরো জাতি ভোটের অপেক্ষায় আছে।”
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au