আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ৮ নভেম্বর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ সম্পর্কে এখন সব রাজনৈতিক দলকে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নিতে হবে। তিনি বলেন, “শেখ হাসিনা ১৮ কোটি মানুষকে টেররিস্ট বলেছেন। অর্থাৎ, তিনি পুরো জাতিকেই সন্ত্রাসী হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। সবাইকে হত্যা করে ক্ষমতায় ফিরতে চান। এমন বক্তব্য ভয়াবহ।”
শনিবার দুপুরে রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম জানান, জাতীয় নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান উপদেষ্টা ও অন্যান্য উপদেষ্টারা নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। “নির্বাচন নিয়ে কোনো সংশয় নেই,” তিনি বলেন।
তিনি আরও বলেন, “মানুষ এখন সুশাসন চায়। কিন্তু তা এক দিনে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। সংস্কার একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রক্রিয়া। অনেক দেশে এমন সংস্কার বাস্তবায়নে ১০ থেকে ১৫ বছর সময় লেগেছে। নেপালের অভিজ্ঞতাও তাই বলে। নির্বাচনের পর আবারও সংলাপ হতে পারে।”
শেখ হাসিনার নতুন বক্তব্য
১৫ মাস ভারতের এক অজানা স্থানে অবস্থানের পর সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো গণমাধ্যমে মুখ খুলেছেন। ভারতের দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-কে দেওয়া একান্ত ই-মেইল সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সুযোগ পেলে তাঁর দল আওয়ামী লীগ আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে চায়।
এই সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা প্রথমবারের মতো স্বীকার করেছেন, ২০২৪ সালের ১৫ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত সরকারের বিরুদ্ধে চলা গণপ্রতিরোধে “হাজারো নাগরিকের মৃত্যুর” জন্য তিনি নেতৃত্বের দায় স্বীকার করেন। তবে নিজের ক্ষমতাচ্যুতিতে কোনো বিদেশি হস্তক্ষেপের প্রশ্নে তিনি নীরব থাকেন।
নির্বাচনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “আওয়ামী লীগকে নির্বাচন থেকে বঞ্চিত করা অগণতান্ত্রিক। এটি সংবিধান ও ভোটারের মৌলিক অধিকার লঙ্ঘন করছে। আমরা নির্বাচন থেকে সরে যাচ্ছি না, বরং অংশ নিতে চাই। কিন্তু একটি অবৈধ প্রশাসন আমাদের বাধা দিচ্ছে। গণতন্ত্রের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বৈধ সরকার প্রতিষ্ঠায় এই চক্র ভাঙতে হবে।”
গণপ্রতিবাদে মৃত্যুর দায় স্বীকার
২০২৩ সালের জুলাই-আগস্টের গণপ্রতিরোধে ব্যাপক প্রাণহানির বিষয়ে শেখ হাসিনা বলেন, “প্রতিটি প্রাণহানিতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি নেতৃত্বের দায় নিচ্ছি। তবে নিরাপত্তা বাহিনীকে হত্যার নির্দেশ দিয়েছি—এমন অভিযোগ সত্য নয়। গৃহীত পদক্ষেপ ছিল আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জীবন বাঁচানোর উদ্দেশ্যে।”
জাতিসংঘের প্রকাশিত মৃত্যুর সংখ্যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। “জাতিসংঘের হিসাব প্রমাণহীন এবং বাস্তবতার সঙ্গে মেলে না। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা অনেক কম। ১৫ মাসেও সরকার মৃতদের তালিকা প্রকাশ না করে বিষয়টিকে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করছে,” বলেন তিনি।
নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে বক্তব্য
শেখ হাসিনা দাবি করেন, ২০২৪ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা “মুক্ত ও ন্যায্য” বলেছেন। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ কখনো সংবিধানবিরোধীভাবে ক্ষমতা দখল করেনি। বরং ফটোভিত্তিক ভোটার তালিকা, স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ও স্বাধীন নির্বাচন কমিশন গঠন করেছে আমাদের সরকারই।”
দুর্নীতির অভিযোগে প্রতিক্রিয়া
ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের ২৩৪ বিলিয়ন ডলারের সম্পদের উল্লেখের প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এত বড় অঙ্কের সম্পদ বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে অসম্ভব। আমাদের অর্থনীতি গত ১৫ বছরে ৪৫০ শতাংশ বেড়েছে, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত।”
তিনি আরও বলেন, “মুহাম্মদ ইউনূস এখন ক্ষমতায় আছেন, কিন্তু তাঁর সম্পদের উৎস প্রকাশ করেননি। সংবাদমাধ্যমের উচিত ঘনিষ্ঠতার কারণে নীরব না থেকে বাস্তব তথ্য অনুসন্ধান করা।”
বাংলাদেশের রাজনীতিতে এই দুটি বক্তব্য নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগকে ঘিরে রাজনৈতিক অবস্থান নির্ধারণের আহ্বান, অন্যদিকে নির্বাসনে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ, দুটি ঘটনাই আসন্ন জাতীয় নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে নতুন এক রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি করেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au