ডেঙ্গুতে ২ জনের মৃত্যু, হাসপাতালে ১৫৭
মেলবোর্ন, ২৫ জুন- দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দুই জনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আরও…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- দেশের বিদ্যমান বৈষম্য দূর না হলে সুষ্ঠু বিচারব্যবস্থা, অবাধ নির্বাচন ও কাঙ্ক্ষিত সংস্কার বাস্তবায়ন কোনোভাবেই সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মানিত ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
শনিবার রাজধানীর এক আলোচনা সভায় বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়া কেবলমাত্র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যায়ন করা যায় না। সমাজে ক্রমবর্ধমান বৈষম্য এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে যা গণতন্ত্র, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনিক কাঠামোর স্থিতিশীলতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাঁর মতে, বৈষম্যের মূলে আঘাত না করলে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যাবে না এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও আস্থা ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে না।
ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, রাষ্ট্রের বিভিন্ন খাতে অসমতা ও পক্ষপাতমূলক নীতি সমাজের বড় অংশকে প্রান্তিক করে দিচ্ছে। উন্নয়নের সুফল কেবল একটি ক্ষুদ্র গোষ্ঠীর হাতে সীমাবদ্ধ থাকায় সাধারণ মানুষ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রক্রিয়া থেকে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছে। তিনি মনে করেন, এমন পরিস্থিতিতে নির্বাচন বা সংস্কারের কোনো উদ্যোগই টেকসই হতে পারে না, যদি না নাগরিকদের মধ্যে আস্থা, অংশগ্রহণ ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করা যায়।
তিনি আরও বলেন, “বৈষম্য কেবল আয় বা সম্পদের ক্ষেত্রে নয়, সুযোগ, ক্ষমতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রেও বিদ্যমান। এই বৈষম্য দূর করতে হলে রাষ্ট্রকে জবাবদিহিতার কাঠামোয় আনতে হবে এবং জনগণের অংশগ্রহণমূলক নীতি প্রণয়ন করতে হবে। উন্নয়নের সুফল সমাজের প্রতিটি শ্রেণির মানুষের মধ্যে পৌঁছে দিতে পারলেই আমরা একটি ন্যায়ভিত্তিক, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও টেকসই সমাজ গঠন করতে পারব।”
আলোচনা সভায় উপস্থিত অন্যান্য বক্তারাও দেশের বিদ্যমান সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য, নীতি বাস্তবায়নের ঘাটতি এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তারা বলেন, উন্নয়নের গতি টিকিয়ে রাখতে হলে প্রথমে সমাজে আস্থা ও সমতার ভিত্তি পুনর্গঠন করতে হবে।
সভা শেষে ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আশা প্রকাশ করেন, বৈষম্য নিরসনের জন্য সরকার ও নাগরিক সমাজ একসঙ্গে কাজ করলে দেশের সামগ্রিক প্রশাসনিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো আরও শক্তিশালী হবে, এবং তখনই প্রকৃত অর্থে সুষ্ঠু বিচার ও অবাধ নির্বাচন সম্ভব হবে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au