মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংগীত ও শরীরচর্চা শিক্ষক নিয়োগ বাতিলের সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী। সংগঠনটি বলেছে, এই সিদ্ধান্ত দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থাকে একপেশে ও অসম্পূর্ণ করে তুলবে এবং শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশে গুরুতর বাধা সৃষ্টি করবে।
শুক্রবার এক বিবৃতিতে উদীচী নেতারা বলেন, শিক্ষা শুধু পাঠ্যপুস্তক নির্ভর জ্ঞান অর্জনের বিষয় নয়; বরং শিশুর মানসিক, নৈতিক, শারীরিক ও সৃজনশীল বিকাশের জন্য সংগীত ও শরীরচর্চা অপরিহার্য। তাই এসব বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ বন্ধ করা জাতীয় শিক্ষানীতির চেতনার সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সংগীত, চারু ও কারুকলা এবং শরীরচর্চার মতো বিষয়গুলো উপেক্ষিত থেকে আসছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগের উদ্যোগে কিছুটা আশার আলো দেখা দিয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ করে নিয়োগ বাতিলের এই সিদ্ধান্ত শুধু শিক্ষাব্যবস্থার ভারসাম্য নষ্ট করবে না, বরং নতুন প্রজন্মকে সংস্কৃতিবিমুখ ও সৃজনশূন্য করে তুলবে।
উদীচীর নেতারা বলেন, সংগীত ও শরীরচর্চা কেবল আনন্দ বা বিনোদনের বিষয় নয়, এগুলো মানবিক গুণাবলি, শৃঙ্খলা, দলগত চেতনা ও সৃষ্টিশীলতা বিকাশের মূল ভিত্তি। শিশুর চরিত্র গঠন ও নৈতিক শিক্ষা জোরদারে এই বিষয়গুলোর ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাই তারা দ্রুত সিদ্ধান্তটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন এবং প্রাথমিক শিক্ষায় সংস্কৃতি ও ক্রীড়াচর্চাকে বাধ্যতামূলক অংশ হিসেবে পুনর্বহালের আহ্বান জানিয়েছেন।
বিবৃতিতে উদীচী আরও জানিয়েছে, একটি সুস্থ, মানবিক ও নান্দনিক সমাজ গঠনে ছোটবেলা থেকেই শিশুদের সাংস্কৃতিক শিক্ষায় যুক্ত করা জরুরি। সরকার যদি সত্যিই সৃজনশীল ও মুক্তচিন্তার নাগরিক গড়ে তুলতে চায়, তাহলে সংগীত ও শরীরচর্চার শিক্ষাকে বাদ দেওয়ার মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া চলতে পারে না।
উদীচী আশা প্রকাশ করেছে, সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করবে এবং প্রাথমিক শিক্ষায় সংগীত ও শরীরচর্চাকে অপরিহার্য বিষয় হিসেবে ধরে রেখে যথাযথ শিক্ষক নিয়োগের ব্যবস্থা করবে।