বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও গভীর করার অঙ্গীকার
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- বেইজিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট সি চিন পিংয়ের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক সম্পর্ক, অর্থনৈতিক সহযোগিতা, বাণিজ্য, বিনিয়োগ,…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- ইরান বর্তমানে গত দুই দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার সম্মুখীন হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টিপাতের ঘাটতি, তাপমাত্রা বৃদ্ধি এবং নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে দেশটির বিশাল অংশজুড়ে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে রাজধানী তেহরান, ইসফাহান, শিরাজ ও খুজেস্তান প্রদেশে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইরানের জলবায়ু বিষয়ক সংস্থা জানিয়েছে, গত এক বছরে দেশটির গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৪০ শতাংশ কম হয়েছে। এর ফলে প্রধান নদীগুলোর পানি শুকিয়ে গেছে, কৃষি জমি ফেটে গেছে এবং অনেক অঞ্চলে পানীয় জলের সরবরাহ প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে।
কৃষি খাতে এই খরার প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে। হাজার হাজার কৃষক তাদের জমিতে চাষ করতে পারছেন না, ফলে ফসল উৎপাদন ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে খেজুর, গম ও যব উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অনেক এলাকায় পশু খাদ্যের সংকটে গবাদি পশু মারা যাচ্ছে।
তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশবিদ ড. আহমাদ মোরতেজা বলেন, “এটা শুধু খরা নয়, এটি এক ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়। গত কয়েক বছর ধরে অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে পানির স্তর নেমে গেছে। এখন তারই ভয়াবহ প্রভাব আমরা দেখছি।”
সরকার খরার মোকাবিলায় জরুরি পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ,,
ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ,কৃষি খাতে পানি ব্যবহারে সীমা আরোপ,শহরাঞ্চলে পানি ব্যবহারে কোটা ব্যবস্থা চালু করা,এবং খরা–পীড়িত অঞ্চলে পানি সরবরাহের জন্য বিশেষ পাইপলাইন প্রকল্প হাতে নেওয়া।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব পদক্ষেপ এখন অনেক দেরিতে নেওয়া হচ্ছে। তারা সতর্ক করেছেন, আগামী বছরগুলোতে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে যদি টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও বন সংরক্ষণ কার্যক্রম না বাড়ানো হয়।
জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম দেশ যেখানে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব সবচেয়ে স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। দেশটির ৮০ শতাংশ এলাকা এখন মরুকরণের ঝুঁকিতে রয়েছে।
খরার কারণে কিছু এলাকায় পানির জন্য মানুষের মধ্যে সংঘাতের ঘটনাও ঘটছে। দক্ষিণাঞ্চলীয় প্রদেশ খুজেস্তানে গত সপ্তাহে পানির সংকটকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভ হয়, যেখানে পুলিশি হস্তক্ষেপের ফলে কয়েকজন আহত হন।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই সংকট শুধু প্রাকৃতিক নয়, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফলও বটে। কার্যকর পানি নীতি ও জনসচেতনতা ছাড়া দেশটি ভবিষ্যতে আরও ভয়াবহ জলসংকটের মুখে পড়তে পারে।
সূত্র: আল জাজিরা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au