চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ৯ নভেম্বর- সংস্কার আলোচনার টানা আট মাস পেরিয়ে এখন রাজপথে ফেরার ঘোষণা দিয়েছে দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো। জাতীয় ঐকমত্য কমিশন ঘিরে সংলাপ চললেও নভেম্বরের শুরুতেই নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। নির্বাচনের ঘনিয়ে আসা সময়, সংস্কার বাস্তবায়ন নিয়ে মতবিরোধ এবং গণভোটের সময়সূচি নিয়ে অমিল; সব মিলিয়ে নভেম্বরের রাজনীতি গরম হয়ে উঠছে।
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে দেশে সংস্কার বাস্তবায়নের আলোচনা শুরু হয়। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে ৩০টি দলের সঙ্গে সাড়ে আট মাসের বৈঠকে জুলাই সনদ তৈরি হলেও, এর বাস্তবায়ন নিয়ে ঐকমত্য হয়নি। এই প্রেক্ষাপটেই বিএনপি, জামায়াতে ইসলামীসহ বেশ কিছু দল এখন রাজপথে কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
১১ নভেম্বর ঢাকায় সমাবেশ করবে জামায়াতসহ আটটি ইসলামি দল। তাদের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারি ও নভেম্বরে গণভোট আয়োজন, এবং জাতীয় নির্বাচনে উভয় কক্ষে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (PR) পদ্ধতি চালু। অন্যদিকে বিএনপি চায় ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনের দিনই গণভোট অনুষ্ঠিত হোক। তারা ইতিমধ্যে ২৩৭ আসনে প্রার্থী ঘোষণা করে রাজপথে প্রচারণা শুরু করেছে।
৭ নভেম্বর ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় শহরগুলোতে সমাবেশ ও শোভাযাত্রা করেছে বিএনপি। এই কর্মসূচিকে তারা নির্বাচনী প্রস্তুতির সূচনা হিসেবে দেখছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠে সক্রিয় হয়েছেন, আর ভোটকেন্দ্রভিত্তিক কমিটি পুনর্গঠনের কাজ চলছে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, বিএনপি আলোচনায় না এসে পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির পুনরাবৃত্তি করছে। তাঁর ভাষায়, “বিএনপির মহাসচিবকে আহ্বান জানানো হয়েছে। কিন্তু তাঁরা বলেছেন, জামায়াতের আহ্বানে সাড়া দেবেন না। বিগত রেজিমও সবসময় এই সুর বাজাত, ওমুকের সঙ্গে বসব না।”
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “কথায় কথায় আপনি রাস্তায় যাবেন। এখন অন্য দল যদি তার প্রতিবাদে রাস্তায় নামে, তাহলে সংঘর্ষ হবে না?”
এদিকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও ১৩ নভেম্বর ‘ঢাকা লকডাউন’ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে। ওই দিনই শেখ হাসিনাসহ তিন আসামির বিরুদ্ধে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার রায় ঘোষণার তারিখ রাখা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আশঙ্কা করছে, এদিন আওয়ামী লীগও রাজপথে নামতে পারে।
অন্যদিকে জামায়াতের নেতৃত্বে আটটি ইসলামি দল ১১ নভেম্বরের সমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছে। তারা ইতিমধ্যে নির্বাচন কমিশনে স্মারকলিপি জমা দিয়ে নভেম্বরে গণভোট আয়োজন ও সংস্কার বাস্তবায়নের দাবি তুলেছে। এই জোটের মধ্যে রয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, জাগপা, ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন।
সব মিলিয়ে নভেম্বরের প্রথমার্ধে তিনটি বড় কর্মসূচি ৭, ১১ ও ১৩ নভেম্বর রাজনীতিকে আবারও সংঘর্ষমুখী করে তুলতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা বলছেন, এই তিন তারিখই দেশের রাজনৈতিক আবহে স্পর্শকাতর সময় তৈরি করবে।
বিএনপি চাইছে নির্বাচনের সঙ্গে গণভোট একসঙ্গে হোক, আর জামায়াতসহ ইসলামপন্থী দলগুলো চাইছে গণভোট আগে হোক। এর ফলে উভয় পক্ষই রাজপথে নিজেদের শক্তি দেখাতে মরিয়া।
অন্যদিকে নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগও ধীরে ধীরে সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ফলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে আছে, কারণ যে কোনো সময় রাজনৈতিক সংঘর্ষ বা সহিংসতা দেখা দিতে পারে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, দলগুলো এখন ক্যালকুলেটিভ পদক্ষেপ নিচ্ছে, সংঘর্ষ নয়, বরং শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে চায় তারা। তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে না থাকলে নভেম্বর রাজনীতির সবচেয়ে উত্তপ্ত মাস হয়ে উঠতে পারে।
সুত্রঃ প্রথম আলো
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au