আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১০ নভেম্বর- রাশিয়ার ধারাবাহিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় ইউক্রেনের বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়েছে। এতে দেশটির বহু অঞ্চল অন্ধকারে নিমজ্জিত হয়েছে। রবিবার ইউক্রেনের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা উক্রএনারগো জানিয়েছে, হামলার পর সারা দেশে ৮ থেকে ১৬ ঘণ্টার বিদ্যুৎবিভ্রাটের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা এখন প্রায় ‘শূন্যের কোঠায়’।
গত কয়েক মাস ধরে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত মস্কোর বাহিনী কয়েক শ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বিভিন্ন অঞ্চলে। ইউক্রেনীয় কর্মকর্তাদের মতে, এসব হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন।
উক্রএনারগো জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দ্রুত মেরামতের চেষ্টা চলছে এবং বিকল্প উৎস থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জ্বালানিমন্ত্রী ভিতলানা গ্রিনচুক শনিবার জানান, কিয়েভ, নিপ্রোপেত্রাভস্ক, দোনেৎস্ক, খারকিভ, পলতাভা, চেরনিহিভ ও সুমি অঞ্চলে আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হয়েছে, তবে সেখানে নিয়মিত লোডশেডিং থাকবে।
স্থানীয় টেলিভিশন ইউনাইটেড নিউজ–কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে গ্রিনচুক বলেন, “শত্রুরা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে ব্যাপক হামলা চালিয়েছে। এগুলো প্রতিহত করা অত্যন্ত কঠিন। আগ্রাসন শুরুর পর জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর এত বড় আঘাত আগে দেখা যায়নি।”
ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিয়া জানিয়েছেন, রুশ ড্রোন হামলায় পশ্চিমাঞ্চলের প্রত্যন্ত এলাকায় দুটি পারমাণবিক বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র গুরুতর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র দ্রুত হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। নিজের টেলিগ্রাম চ্যানেলে সিবিয়া লিখেছেন, “রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে ইউরোপের জ্বালানি নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে। আমরা আইএইএ গভর্নর বোর্ডের জরুরি বৈঠক আহ্বানের অনুরোধ জানাচ্ছি।”
রাশিয়ার ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে চীন ও ভারতের প্রতিও আহ্বান জানিয়েছেন ইউক্রেনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, “এই হামলা বন্ধে প্রভাবশালী দেশগুলোর ভূমিকা জরুরি,” উল্লেখ করে যে দুটি দেশ রাশিয়ার জ্বালানি তেলের প্রধান ক্রেতা।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, অব্যাহত হামলার কারণে ইউক্রেনের তাপ সরবরাহ ব্যবস্থা চরম ঝুঁকিতে পড়েছে। দেশটির জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ওলেকজান্দ্রা খারচেঙ্কো বলেন, “তাপমাত্রা যদি হিমাঙ্কের ১০ ডিগ্রির নিচে নেমে আসে এবং কিয়েভের দুটি বিদ্যুৎ ও তাপকেন্দ্র তিন দিনের বেশি সময় বন্ধ থাকে, তাহলে রাজধানীতে ভয়াবহ প্রযুক্তিগত বিপর্যয় দেখা দিতে পারে।”
রাশিয়ার এই হামলাকে ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ “শীতের আগে মানবিক দুর্ভোগ বাড়ানোর পরিকল্পিত প্রচেষ্টা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিদ্যুৎবিহীন অবস্থায় হাসপাতাল, পানি সরবরাহ কেন্দ্র এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সুত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au