বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১০ নভেম্বর- বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, স্বাধীনতার মহান সংগ্রামকে ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে। ইতিহাসকে অস্বীকার করে তা এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যে ১৯৭১ সালে কিছুই হয়নি বা সবকিছু ঘটেছে ২৪শে মার্চে, যা ভিত্তিহীন এবং গ্রহণযোগ্য নয়। সোমবার সকালে ঠাকুরগাঁও জেলায় মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ভবনে মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, ১৯৭১ সালে হাজার হাজার মানুষকে নির্বিচারে হত্যার মাধ্যমে নিপীড়ন করা হয়েছিল, লাখ লাখ মানুষ তাদের বাড়িঘর ত্যাগ করে শরণার্থী হয়েছেন এবং নারী-শিশুদের বিরুদ্ধে জঘন্য অত্যাচার করা হয়েছিল। এসব ঘটনা ভুলে যাওয়া যায় না এবং তাদের স্মৃতিকে মুছে ফেলার যে চেষ্টা চলছে, তা আমরা কখনও মেনে নেব না। তিনি বলেন, “নৌকায় নয়, এখানে জন্মেছি that point must be remembered” উক্তি সংরক্ষণ করে মানুষের ঐতিহাসিক অনুভবকে জীবিত রাখতে হবে।
ফখরুল আরও বলেন, স্বাধীনতার সময় যারা পাকিস্তানের সঙ্গে যোগসাজশ করে মুক্তিযোদ্ধাদের হত্যা করেছে, যারা মহিলাদের নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের আপোশ করা যাবে না। তিনি অভিযোগ করেন, সক্রিয়ভাবে একটি চক্র দেশকে দুর্বল করে গ্রাস করার চেষ্টা করছে এবং কিছু মহল ধর্মীয় অনুভূতিকে কাজে লাগিয়ে সেই উদ্দেশ্য এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তিনি সবাইকে সতর্ক করে বলেন, এ রকম কাজ হতে দিতে পারি না এবং মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সামনে রেখে রুখে দাঁড়াতে হবে।
সভায় তিনি দেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রসঙ্গও তুলেন। ফখরুল বলেন, নির্বাচন ব্যাহত করার জন্য ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত চলছে। নির্বাচন পিছিয়ে দিলে সেটি দেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারণ হবে। তিনি দাবি করেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজন করা দরকার এবং তিনি চান ড. মুহাম্মদ ইউনূস তৎক্ষণাৎ নির্বাচনের ব্যবস্থা করে নির্বাচনী সরকার প্রতিষ্ঠা করুন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল একযোগে সামাজিক সম্প্রীতির বার্তাও দেন। তিনি বলেন, “আমরা হিন্দু-মুসলিম সবার ভাই ভাই। এখানে বিভাজন সৃষ্টির চেষ্টা সফল হতে দেবেন না।”
মতবিনিময় সভার সভাপতিত্ব করেন জেলা মুক্তিযোদ্ধা ইউনিটের আহ্বায়ক নুর করিম। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ইউনিট কেন্দ্রীয় কমিটির আহ্বায়ক বীর মুক্তিযোদ্ধা নাঈম জাহাঙ্গীর, সদস্য সচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা সাদেক আহমদ খান, সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা মনসুর আলী সরকার এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মির্জা ফয়সল আমিন প্রমুখ।