মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- ভারতের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর উদ্বেগ বেড়েছে, কারণ সাম্প্রতিক রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, পাকিস্তানি জঙ্গি সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়েবা (LeT)-এর প্রধান হাফিজ সাঈদ বাংলাদেশে একটি নতুন ঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা করছেন। তাঁর লক্ষ্য, এখান থেকে ভারতের বিরুদ্ধে নতুন একটি ফ্রন্ট বা কার্যক্রমের কেন্দ্র গড়ে তোলা।
এই তথ্য সামনে এসেছে এমন এক সময়ে, যখন পাকিস্তানের নৌবাহিনীর প্রধান চার দিনের সফরে রবিবার ঢাকায় পৌঁছেছেন। সফরকালে তিনি বাংলাদেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানা গেছে। এরই সঙ্গে, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো একটি পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রামে নোঙর করেছে- যা দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের আগস্টে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ক্রমেই ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠছে। এই পরিবর্তন নয়াদিল্লিতে উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে, কারণ ভারত আশঙ্কা করছে, ইসলামাবাদ ঢাকার সঙ্গে নতুন নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক সমীকরণ গড়ে তুলতে পারে।
ভারতের নিরাপত্তা বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তান যদি বাংলাদেশে কৌশলগত প্রভাব বিস্তার করতে সক্ষম হয়, তবে এটি ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর নিরাপত্তার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করতে পারে।
উল্লেখ্য, হাফিজ সাঈদ ও তার সংগঠন লস্কর-ই-তৈয়েবাকে ভারতের বিভিন্ন সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। বিশেষ করে ২০০৮ সালের মুম্বাই হামলা ও ২০০১ সালের ভারতীয় সংসদ ভবন হামলার সঙ্গে তার সরাসরি সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে অভিযোগ।
ঢাকা ও ইসলামাবাদ উভয়ই এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য না করলেও, দক্ষিণ এশিয়ার কূটনৈতিক মহল এই ঘটনাবলিকে অঞ্চলের নিরাপত্তা ও কৌশলগত ভারসাম্যের জন্য “গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত” হিসেবে দেখছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর পাকিস্তানের বাড়তি আগ্রহ কেবল কূটনৈতিক নয়; এর পেছনে আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার ও ভারতের ওপর চাপ সৃষ্টির একটি গোপন কৌশলও থাকতে পারে।