সাত এলাকায় ১২ ককটেল বিস্ফোরণ, তিন গাড়িতে আগুন। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- রাজধানী ঢাকায় সোমবার ভোর থেকে রাত পর্যন্ত একের পর এক সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে। সাতটি এলাকায় মোট ১২টি ককটেল বিস্ফোরণ এবং তিনটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি, তবে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে পুরো নগরজুড়ে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরপুর ১০ নম্বর গোলচত্বরের পাশে শাহ আলী মার্কেটের সামনে পরপর তিনটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। একই সময়ে খিলগাঁও ফ্লাইওভারের ওপরও আরেকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুর মডেল থানার কর্মকর্তারা জানান, ফুটওভার ব্রিজের ওপর থেকে কেউ ককটেল নিক্ষেপ করতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধানমন্ডির ল্যাবএইড হাসপাতালের সামনে শান্ত-মারিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ফায়ার সার্ভিসের ডিউটি অফিসার শিহাব সরকার জানান, খবর পেয়ে মোহাম্মদপুর স্টেশন থেকে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। ধানমন্ডি বিভাগের সহকারী কমিশনার (এসি) শাহ মোস্তফা তারিকুজ্জামান বলেন, আগুন লাগার সময় বাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী ছিলেন, তবে তাঁরা সবাই নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হন।
এর আগে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাজধানীর চারটি স্থানে সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে মিরপুরের গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে একটি, মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডে ‘প্রবর্তনা’ নামের প্রতিষ্ঠানের সামনে ও ভেতরে দুটি, ধানমন্ডির মাইডাস সেন্টারের সামনে দুটি এবং ধানমন্ডি ৯/এ এলাকার ইবনে সিনা হাসপাতালের সামনে আরও দুটি ককটেল বিস্ফোরণ হয়।
গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে রবিবার গভীর রাতে এবং সোমবার ভোররাতে। প্রথম বিস্ফোরণটি ঘটে রাত ২টা ২৬ মিনিটে এবং দ্বিতীয়টি ভোররাত ৩টা ৫৫ মিনিটে। তবে এতে কেউ আহত হয়নি এবং ভবনের কোনো ক্ষতিও হয়নি।
গ্রামীণ ব্যাংকের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা আল হেলাল বলেন, রাতের অন্ধকারে মোটরসাইকেলে করে দুজন ব্যক্তি এসে ভবনের সীমানাপ্রাচীরের ভেতরে ককটেল নিক্ষেপ করে পালিয়ে যায়। সিসি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, মোটরসাইকেলে দুজন করে চারজন হামলায় জড়িত ছিল। তাঁদের মুখ হেলমেটের কারণে দেখা যায়নি। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে ককটেলের খোসা, পেরেক, কাচের টুকরা ও স্কচটেপ উদ্ধার করেছে।
মিরপুর মডেল থানার সহকারী কমিশনার (এসি) মো. মিজানুর রহমান বলেন, “দুজন ব্যক্তি মোটরসাইকেলে এসে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়। তাঁদের শনাক্তে ফুটেজ বিশ্লেষণ চলছে।”
সকালে, গ্রামীণ ব্যাংক ভবনের হামলার কিছুক্ষণ পরই মোহাম্মদপুরের স্যার সৈয়দ রোডের ৬/৮ নম্বর ভবনে ‘প্রবর্তনা’ ও ‘বীজবিস্তার ফাউন্ডেশন’-এর সামনের সড়কে ও সীমানার ভেতরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে।
প্রবর্তনার নিরাপত্তাকর্মী মো. মোস্তফা জানান, ভোর সাড়ে ৬টার দিকে একটি মোটরবাইকে দুজন এসে প্রথমে একটি ককটেল ছোড়ে, সেটি ভবনের প্রাচীর থেকে ছিটকে একটি পিকআপ ভ্যানের ওপর পড়ে। পরে আরেকটি ককটেল নিক্ষেপ করলে সেটি ফুটপাতে বিস্ফোরিত হয়। তখন সেখানে থাকা চারজন পুলিশ সদস্য বাইরে বেরিয়ে এলেও হামলাকারীরা এর আগেই পালিয়ে যায়।
প্রবর্তনার ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, “এর আগেও এখানে একবার পেট্রলবোমা হামলা হয়েছিল। নিরাপত্তা জোরদার করা হলেও আবারও এমন ঘটনা ঘটলো।”
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার ইবনে মিজান বলেন, “ভবনের সামনের সড়ক ও ভেতরে দুটি বিস্ফোরণ ঘটে। এতে কেউ আহত হয়নি।”
এ ছাড়া ভোরে শাহজাদপুরে ভিক্টর পরিবহনের একটি বাসে এবং সকাল সোয়া ৬টার দিকে মেরুল বাড্ডায় ব্র্যাক ইউনিভার্সিটির পাশে আকাশ পরিবহনের একটি বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। তবে এসব ঘটনাতেও কোনো হতাহতের খবর মেলেনি।
দিনভর রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ঘটে যাওয়া এই ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাগরিকদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ঘটনাগুলো সমন্বিতভাবে ঘটানো হতে পারে। হামলাকারীদের শনাক্তে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য বিশ্লেষণ চলছে।