মেলবোর্ন, ১১ নভেম্বর- দীর্ঘ এক দশকের বৈরিতার পর যুক্তরাষ্ট্র ও সিরিয়ার সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট এবং রিপাবলিকান প্রার্থী ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ বৃহস্পতিবার এক ঐতিহাসিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকের পর যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর আরোপিত কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয়।
বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয় ওমানের রাজধানী মাসকাটে, যেখানে মধ্যস্থতা করে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। এটি ছিল ২০১১ সালে সিরিয়ার গৃহযুদ্ধ শুরুর পর দুই দেশের নেতাদের প্রথম সরাসরি সাক্ষাৎ।
কূটনৈতিক সূত্র জানায়, বৈঠকে দুই নেতা মূলত মানবিক সহায়তা, তেল রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা, এবং সন্ত্রাসবিরোধী সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেন।
বাশার আল-আসাদ যুক্তরাষ্ট্রকে সিরিয়ার অবকাঠামো পুনর্গঠনে সহায়তা করার আহ্বান জানান এবং যুদ্ধবিধ্বস্ত সিরিয়ার সাধারণ জনগণের দুরবস্থা তুলে ধরেন।
বৈঠক শেষে ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন,
“আমরা সিরিয়ায় মানবিক সংকট লাঘবের জন্য কিছু অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করছি। তবে এটি সম্পূর্ণ প্রত্যাহার নয়, বরং একটি পরীক্ষামূলক পদক্ষেপ।”
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার তেল ও ওষুধ আমদানি খাতে আংশিক ছাড় দিচ্ছে, যাতে দেশটির জনগণ সরাসরি সহায়তা পায়।
সিরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা সানা জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট আসাদ যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তকে “ইতিবাচক শুরু” হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং দুই দেশের সম্পর্ক “ধীরে ধীরে পুনর্গঠনের” আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।
তিনি বলেন,
“আমরা সংঘাত নয়, সহযোগিতা চাই। সিরিয়ার জনগণ দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। যদি এই পদক্ষেপ বাস্তবায়িত হয়, এটি মানবতার বিজয় হবে।”
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়েই এই বৈঠককে স্বাগত জানিয়েছে। জাতিসংঘ মহাসচিবের দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়,
“যেকোনো সংলাপ যা মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করে, তা আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।”
তবে কিছু পশ্চিমা কূটনীতিক ট্রাম্পের এই পদক্ষেপকে “অতিরিক্ত তাড়াহুড়ো” বলে উল্লেখ করেছেন। তাদের মতে, সিরিয়ায় মানবাধিকার পরিস্থিতি ও রাজনৈতিক সংস্কারের বিষয়গুলো এখনো সমাধান হয়নি।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, ট্রাম্প আসন্ন মার্কিন নির্বাচনের আগে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক সাফল্য দেখাতে চাচ্ছেন। সিরিয়ার সঙ্গে আংশিক সম্পর্ক পুনঃস্থাপন সেই প্রচেষ্টারই অংশ হতে পারে।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাক্ষাৎ যদি ভবিষ্যতে স্থায়ী কূটনৈতিক সংলাপে রূপ নেয়, তবে এটি সিরিয়া ও পশ্চিমা বিশ্বের সম্পর্কে নতুন যুগের সূচনা করতে পারে।
সূত্র : আল জাজিরা