সাদা-কালো পতাকায় সয়লাব দেশ, নেপথ্যে কারা? অর্থ কারা দিচ্ছে?
মেলবোর্ন, ২৬ জুন- ‘আপনারা সব জায়গায় কালেমার পতাকা লাগায়ে দেবেন। এখন যদি এটা জঙ্গিবাদ হয়ে থাকে, তাহলে আর্জেন্টিনা এবং ব্রাজিল– এগুলোর সব পতাকা নামাতে হবে।…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- ভারতের রাজধানী দিল্লির ঐতিহাসিক লালকেল্লার কাছে সোমবার সন্ধ্যায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে নয়জন নিহত ও অন্তত ২৪ জন আহত হওয়ার ঘটনায় নতুন তথ্য সামনে এসেছে। প্রাথমিক তদন্তে গোয়েন্দারা জানিয়েছেন, বিস্ফোরণটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা নয়, বরং আতঙ্ক ও ভুলের কারণে ঘটেছে ,যা ঘটেছিল বিস্ফোরক পরিবহনের সময়।
গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সকাল থেকে সারা দেশে সন্দেহভাজন স্লিপার সেলগুলোর ওপর পুলিশের ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছিল। এর অংশ হিসেবে হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে প্রায় ২,৯০০ কেজি বোমা তৈরির রাসায়নিক উদ্ধার করা হয়। এই অভিযানেই সন্দেহভাজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা দ্রুত বিস্ফোরক স্থানান্তরের চেষ্টা করে।
তদন্তকারীরা ধারণা করছেন, এই আতঙ্কের মধ্যেই বিস্ফোরকবাহী হুন্ডাই i20 গাড়িটি দিল্লির ব্যস্ত চাঁদনি চক এলাকায় পৌঁছে যায়। যানজটে আটকে থাকা অবস্থায় আইইডি (Improvised Explosive Device) বিকল হয়ে পড়ে এবং হঠাৎ বিস্ফোরণ ঘটে।
গোয়েন্দা কর্মকর্তারা NDTV-কে জানিয়েছেন, বিস্ফোরণে ব্যবহৃত আইইডিটি সঠিকভাবে সংযোজন করা হয়নি, ফলে এর শক্তি সীমিত ছিল। ঘটনাস্থলে কোনো বিস্ফোরণ গহ্বর বা ধাতব টুকরো পাওয়া যায়নি, যা দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণের সম্ভাবনাকে আরও জোরদার করে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিস্ফোরণের অভিঘাতে আশপাশের ভবনগুলো কেঁপে ওঠে এবং আতঙ্কে পুরো এলাকা স্তব্ধ হয়ে যায়।
এই ঘটনায় মূল সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন উমর নবি, যিনি জম্মু ও কাশ্মীরের একজন চিকিৎসক। বিস্ফোরণের তিন দিন আগে তিনি নিজের মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন এবং পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করেন।
গোয়েন্দারা আরও জানিয়েছেন, উমর নবি ছাড়াও আরও কয়েকজন সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয়েছে, যারা পেশায় চিকিৎসক। তদন্তকারীদের মতে, চিকিৎসক পরিচয়টি ছিল তাদের আত্মগোপনের ছদ্মবেশ, যাতে তারা নিরাপত্তা সংস্থার নজর এড়াতে পারে।
গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বলছে, গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দেশজুড়ে স্লিপার সেলগুলোকে ঘিরে ব্যাপক অভিযান চালানো হচ্ছে। সেই অভিযানের ফলেই এই বিস্ফোরণ বড় ধরনের হামলায় পরিণত হতে পারেনি।
তদন্তকারী কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি আপাতত দুর্ঘটনাজনিত বিস্ফোরণ হিসেবে বিবেচনা করা হলেও, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্ভাব্য সব দিক খতিয়ে দেখছে। বিস্ফোরণে ব্যবহৃত রাসায়নিকের উৎস, সংশ্লিষ্ট যোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও আর্থিক লেনদেনের খোঁজও নেওয়া হচ্ছে।
এক কর্মকর্তা বলেন, “প্রাথমিক প্রমাণ অনুযায়ী, এটি একটি অসম্পূর্ণ আইইডি, যা আতঙ্কে ও তড়িঘড়ি করে সক্রিয় হয়ে বিস্ফোরিত হয়েছে। এটি পরিকল্পিত আত্মঘাতী হামলা নয়।”
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে সব তথ্য এখনই প্রকাশ করা যাচ্ছে না।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au