আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১২ নভেম্বর- গত কয়েকদিনে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে দুর্বৃত্তদের ককটেল বিস্ফোরণ ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন স্থানে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ একটি দলের আগামী ১৩ নভেম্বরের লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে প্রশাসন নিরাপত্তা জোরদার করেছে। যদিও ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) বলছে, এই কর্মসূচি ঘিরে কোনো নিরাপত্তা হুমকি নেই।
গত কয়েকদিনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ঢাকায় রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ডিএমপির ৫০টি থানায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রভাব পুরোপুরি লক্ষ্য করা যায়নি। এ সময় দুর্বৃত্তরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের যানবাহন থেকে শুরু করে যাত্রীবাহী বাসে আগুন দিয়েছে। এছাড়া মুখোশ ও হেলমেট পরিহিত ব্যক্তিরা রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় নির্বিচারে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। ডিএমপির তথ্য অনুযায়ী, গত ১১ দিনে রাজধানীর ১৫ স্থানে ১৭টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটেছে।
দুর্বৃত্তরা শুধু ককটেল বিস্ফোরণ বা বাসে আগুন দেওয়াই নয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করছে। মঙ্গলবার রাতের ঘটনায় মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি স্কুলের গার্লস শাখায় পেট্রোলবোমা নিক্ষেপ করা হয়, তবে হতাহত হয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ঢাকায় গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনা যেমন প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, সুপ্রিম কোর্ট, সচিবালয়সহ প্রধান সরকারি অফিসগুলোতে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা মাঠপর্যায়ে নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে কাজ করছেন।
ধানমন্ডি ৩২ নম্বর এলাকায় বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। সেখানে গত দুই দিন ধরে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে সন্দেহজনক যানবাহনকে তল্লাশি করছে। বনানী, উত্তরা, বাড্ডা, পল্টনসহ অন্যান্য এলাকায়ও বাড়তি পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার বেশিরভাগ ঘটনা রাতের বেলায় হওয়ায়, বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) এস এন মো. নজরুল ইসলাম বলেন, সরকারি গুরুত্বপূর্ণ অফিসগুলোতে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রতিটি থানার সামনে ৮ থেকে ১০ জন অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য রাখা হয়েছে। রমনা ও শাহবাগ থানার ইনচার্জরা জানান, থানার বাইরে ও সংলগ্ন এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে, তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক।
নিরাপত্তা নিশ্চিতকল্পে ঢাকা ও আশপাশের জেলায় ১৪ প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হয়েছে। ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী বলেন, ঢাকার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ দলের কর্মসূচিকে ঘিরে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
কমিশনার আরও বলেন, অক্টোবর থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল ও তাদের অঙ্গ-সংগঠন ঢাকায় ১৪টি ঝটিকা মিছিল করেছে। এসব ঘটনায় ৫৫২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ভোরবেলায় বা ব্যস্ত সময়ে হেলমেট ও মুখোশ পরিহিত অবস্থায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হচ্ছে, এবং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদেরও এসব কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।
মোটকথা, রাজধানীতে নাশকতার শঙ্কায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় রয়েছে এবং গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাঘাট, অফিস, থানায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au