জলবায়ু সংকটই এখন স্বাস্থ্য সংকট বলে মন্তব্য করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৩ নভেম্বর- বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) বলেছে, জলবায়ু পরিবর্তন এখন কেবল পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি এক গভীর বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সংকট। সংস্থাটির নতুন এক প্রতিবেদনে সতর্ক করা হয়েছে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, বন্যা, খরা ও দূষণ মানুষের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে এবং বিশ্বজুড়ে মৃত্যুহার বাড়াচ্ছে।
ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক টেড্রস আধানম গেব্রিয়েসুস বলেছেন, “জলবায়ু পরিবর্তন মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এটি খাবার, পানি, বায়ু এবং আমাদের বসবাসযোগ্য পরিবেশ সবকিছুর ওপর সরাসরি আঘাত হানছে। এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে আসন্ন দশকগুলোতে কোটি কোটি মানুষের জীবন হুমকিতে পড়বে।”
প্রতিবেদন অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট তাপপ্রবাহ, ম্যালেরিয়া ও ডেঙ্গুর মতো বাহক-জনিত রোগ, এবং বায়ুদূষণজনিত শ্বাসকষ্টের রোগ দ্রুত বাড়ছে। গত এক দশকে শুধুমাত্র বায়ুদূষণের কারণে প্রতি বছর প্রায় ৭০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটছে, যা বিশ্বের অন্যতম বড় নীরব হত্যাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রোগবাহক মশার প্রজনন ও রোগের বিস্তার বাড়ছে। আফ্রিকা, দক্ষিণ এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে শিশুরা পুষ্টিহীনতা ও পানিবাহিত রোগে সবচেয়ে বেশি ভুগছে।
প্রতিবেদনটি উল্লেখ করে, স্বাস্থ্য খাত নিজেও জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবের আওতায় এসেছে। হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির ঘাটতি বাড়ছে, ফলে জরুরি চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
ডব্লিউএইচও দেশগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ, পরিচ্ছন্ন পরিবহন ব্যবস্থা ও টেকসই কৃষি পদ্ধতি গ্রহণে জোর দিতে হবে।
টেড্রস বলেন, “জলবায়ু নীতিকে স্বাস্থ্য নীতির সঙ্গে একীভূত করতে হবে। কারণ আমরা যদি আমাদের গ্রহকে রক্ষা করতে না পারি, তাহলে মানুষের স্বাস্থ্যও রক্ষা করা সম্ভব হবে না।”
জাতিসংঘের আগামি জলবায়ু সম্মেলন (কপ-২৯) সামনে রেখে প্রকাশিত এই প্রতিবেদন বিশ্বনেতাদের উদ্দেশে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে, জলবায়ু সংকটের সমাধানই ভবিষ্যতের জনস্বাস্থ্যের একমাত্র পথ।