অ্যাডিলেডে বিমান বিধ্বস্তে দুইজন নিহত, হ্যাঙ্গারে ভয়াবহ আগুন
মেলবোর্ন, ২৯ এপ্রিল- অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড শহরের উত্তরে অবস্থিত প্যারাফিল্ড বিমানবন্দর-এ একটি হালকা বিমান বিধ্বস্ত হয়ে দুইজন নিহত এবং মাটিতে থাকা একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। স্থানীয়…
মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- জার্মান সরকার নতুন করে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনছে না, তবে দেশটির সেনাবাহিনী ‘বুন্ডেসভেয়ার’-এ জনবল ঘাটতি পূরণের জন্য শুরু হচ্ছে নতুন ঐচ্ছিক সামরিক সেবা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট খসড়া আইন আগামী ডিসেম্বর মাসে জার্মান সংসদে উপস্থাপন করা হবে। তাতে বলা হয়েছে, নতুন ব্যবস্থাটি প্রথমে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবার ভিত্তিতেই শুরু হবে। তবে ভবিষ্যতে সকল ১৮ বছর বয়সী পুরুষের শারীরিক সক্ষমতা পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী বরিস পিস্টোরিয়াস, যিনি মধ্য-বামপন্থী সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির (SPD) সদস্য, জানিয়েছেন যে আগামী জানুয়ারি থেকে এই নতুন স্বেচ্ছাসেবী সামরিক সেবা চালু হবে। আগের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থার তুলনায় এখানে বেতন-ভাতা ও সুবিধা অনেক ভালো হবে।
তিনি বলেন, “অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ, বিশেষ করে নর্ডিক দেশগুলো দেখিয়েছে যে আকর্ষণীয় শর্তে স্বেচ্ছাসেবী সেবা কার্যকর হতে পারে। আমরাও সেই পথেই এগোচ্ছি।” সরকারের লক্ষ্য ২০২৬ সালের মধ্যে ২০ হাজার নতুন স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ দেওয়া। প্রত্যেকে মাসে ২ হাজার ৬০০ ইউরো (প্রায় ৩ হাজার মার্কিন ডলার) বেতন পাবেন (কর পূর্ব)।
বর্তমানে জার্মান সেনাবাহিনীতে প্রায় ১ লাখ ৮২ হাজার সৈনিক রয়েছে। কিন্তু ২০৩৫ সালের মধ্যে ন্যাটোর চাহিদা পূরণে এই সংখ্যা বাড়িয়ে কমপক্ষে ২ লাখ ৬০ হাজারে নিতে হবে। এজন্য সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে গত কয়েক মাস ধরে বিতর্ক চলছিল বাধ্যতামূলক সেবা ফিরিয়ে না আনলে এত জনবল কীভাবে যোগাড় করা সম্ভব হবে?
অবশেষে একটি সমঝোতায় পৌঁছেছে সরকার। স্বেচ্ছাসেবীর সংখ্যা যথেষ্ট না হলে সংসদ (বুন্ডেস্টাগ) সিদ্ধান্ত নিতে পারবে নির্দিষ্ট সংখ্যক তরুণের জন্য “প্রয়োজনে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা” চালুর বিষয়ে।
বিরোধী সিডিইউ-সিএসইউ জোট এই সমঝোতাকে স্বাগত জানিয়েছে। দলের এমপি আলেকজান্ডার হফম্যান বলেছেন, “এটি স্বাধীনতা ও দায়িত্বের সঠিক ভারসাম্য।”
নতুন নিয়মে কী থাকছে
২০২৬ সাল থেকে সব ১৮ বছর বয়সী পুরুষকে একটি প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে, যেখানে থাকবে শারীরিক সক্ষমতা ও সেনাবাহিনীতে যোগদানের ইচ্ছা সম্পর্কিত তথ্য। প্রত্যেককে একটি কিউআর কোড পাঠানো হবে, যার মাধ্যমে তারা অনলাইনে এই “ইচ্ছাপত্র” পূরণ করবেন। নারীদের জন্য এটি ঐচ্ছিক থাকবে, কারণ জার্মান সংবিধান অনুযায়ী শুধুমাত্র পুরুষদের বাধ্যতামূলক সেবার আওতায় আনা যায়।
২০২৭ সালের জুলাই থেকে সব ১৮ বছর বয়সী পুরুষের মেডিকেল পরীক্ষা বাধ্যতামূলক করা হবে। প্রতি বছর প্রায় ৩ লাখ তরুণ এতে অন্তর্ভুক্ত হবেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর মতে, সম্ভাব্য সংঘাতের পরিস্থিতিতে কারা যোগ্য, তা জানার এটাই একমাত্র উপায়।
২০১১ সালে বাধ্যতামূলক সেবা বাতিলের পর যে স্থানীয় নিয়োগ অফিসগুলো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল, সেগুলো এখন আবার চালুর উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। নতুন কেন্দ্রগুলো হবে আধুনিক, উন্মুক্ত ও প্রযুক্তিনির্ভর পুরোনো আমলের ধূলিমলিন দপ্তরের মতো নয়।
তরুণদের ক্ষোভ
তরুণ প্রজন্মের অনেকেই সরকারের এই উদ্যোগে অসন্তুষ্ট। ছাত্র প্রতিনিধি কোয়েন্টিন গ্যার্টনার বলেছেন, “এই চুক্তি যথেষ্ট নয়। তরুণদের মানসিক স্বাস্থ্য ও শিক্ষার জন্য কমপক্ষে ১০০ বিলিয়ন ইউরোর পরিকল্পনা থাকা উচিত।”
বামপন্থী দল লেফট পার্টির সংসদীয় নেতা সোরেন পেলম্যান বলেন, “সরকার বাধ্যতামূলক সেবা ফিরিয়ে আনার বিতর্ক শুধু পিছিয়ে দিয়েছে। তরুণ প্রজন্মকে বলি দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও বলেন, “এখন নয়, কিন্তু অচিরেই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা ফিরিয়ে আনা হবে, এটা অনুমান করা কঠিন নয়।” দলটি তরুণদের পরামর্শ দিতে চায়, যারা ভবিষ্যতে সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে না চায়। কারণ, স্বেচ্ছাসেবী হোক বা বাধ্যতামূলক, জার্মান সংবিধান নাগরিকদের “বিবেকগত কারণে সেবা প্রত্যাখ্যানের অধিকার” নিশ্চয়তা দেয়।
সুত্রঃ ডয়েচে ভেলে
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au