মেলবোর্ন, ১৪ নভেম্বর- পাকিস্তানে বহুদিন ধরে আলোচনার কেন্দ্রে থাকা বিতর্কিত সংবিধান সংশোধনীতে শেষ পর্যন্ত স্বাক্ষর করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি। স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে সংশোধনীটি এখন কার্যকর হয়েছে, আর দেশজুড়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
সংশোধনীটিতে মূলত বিচারব্যবস্থা, ক্ষমতার বণ্টন এবং সামরিক প্রতিষ্ঠানের ভূমিকা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনা হয়েছে। সমালোচকদের দাবি, এই পরিবর্তন রাজনৈতিক ভারসাম্যকে দুর্বল করবে এবং নির্বাহী ক্ষমতার ওপর নজরদারি কমিয়ে দেবে। বিশেষ করে বিচারপতি নিয়োগের প্রক্রিয়ায় সরকারের প্রভাব বাড়ানো নিয়ে উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি।
বিরোধী দলগুলোর নেতারা এই সংশোধনীকে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করার প্রচেষ্টা বলে মন্তব্য করেছেন। তাদের অভিযোগ, সংশোধনীটি তাড়াহুড়া করে পার্লামেন্টে পাস করা হয়েছে এবং জাতীয় স্বার্থে খোলা আলোচনা বা মতামত বিনিময় হয়নি। তারা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়েরও ইঙ্গিত দিয়েছেন।
অন্যদিকে সরকারের যুক্তি, সংশোধনীটি রাষ্ট্র পরিচালনার দক্ষতা বাড়াবে এবং দীর্ঘদিন ধরে চলা কিছু সাংবিধানিক জটিলতা দূর করবে। তাদের দাবি, এটি প্রশাসনিক কাজকে সহজ করবে এবং বিচারব্যবস্থার জবাবদিহি বাড়াবে।
স্বাক্ষরের পর দেশজুড়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে। আইনি বিশ্লেষকদের অনেকেই বলছেন, সংশোধনীর কয়েকটি ধারা ভবিষ্যতে আদালতে চ্যালেঞ্জ হতে পারে। পরিস্থিতি কোন দিকে যাচ্ছে, এখন দেশটি সে দিকেই তাকিয়ে আছে।
সূত্র : ডন