মেলবোর্ন, ১৭ নভেম্বর- মার্কিন রাজনীতিক ও নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলির সদস্য জোহার মামদানি স্টারবাকসের বিরুদ্ধে বয়কটের আহ্বান জানিয়েছেন। ফিলিস্তিন ইস্যুতে কোম্পানির অবস্থান এবং কর্মীদের প্রতি ব্যবহারের অভিযোগ থেকেই এই সিদ্ধান্ত বলে তিনি যুক্তি তুলে ধরেছেন। তার সমালোচনা ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে, যা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি করেছে।
মামদানির অভিযোগ, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধের সময় স্টারবাকস কর্মীদের একটি অংশ যুদ্ধবিরতি চেয়ে যে অবস্থান নিয়েছিল, কোম্পানি সেটিকে দমন করেছে। তিনি দাবি করেন, ইউনিয়নভুক্ত কর্মীরা সামাজিকভাবে ন্যায় বিচার ও মানবিক অবস্থানের পক্ষে কথা বললেও কোম্পানি তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে।
সাম্প্রতিক এক পোস্টে মামদানি বলেন, মানবিক বিপর্যয়ের মুহূর্তে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সীমিত করা এবং কর্মীদের ওপর চাপ প্রয়োগ করা গ্রহণযোগ্য নয়। তার ভাষায়, “যে কোম্পানি কর্মীদের নীরব করতে চায়, তাকে সমর্থন করার কোনো নৈতিক বাধ্যবাধকতা নেই।”
স্টারবাকস অবশ্য অভিযোগ অস্বীকার করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, তাদের কোনো রাজনৈতিক অবস্থান নেই এবং কর্মীদের নিরাপত্তা ও কোম্পানির সুনাম রক্ষার জন্যই কিছু নিয়ম প্রয়োগ করা হয়। তবে ইউনিয়নভুক্ত কর্মীরা অভিযোগ করছে, যুদ্ধবিরতির পক্ষে সমর্থন জানানোকে ‘নীতিভঙ্গ’ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
মামদানির এই আহ্বানের পর অনলাইনেও স্টারবাকসকে বর্জনের ডাক আরও জোরালো হয়েছে। অনেক গ্রাহক বলছেন, তারা মানবাধিকার ইস্যুতে নৈতিক অবস্থান নেওয়া ব্র্যান্ডকেই অগ্রাধিকার দেবেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রে কর্মী অধিকার, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং কর্পোরেট নীতির মিলিত প্রভাব স্টারবাকসকে নতুন চাপে ফেলেছে। মামদানি বলছেন, বৈশ্বিক মানবিক সংকটে প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্ববোধ থাকা উচিত এবং ব্যবসায়িক স্বার্থ দেখেই সব সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়।