মহানবীকে কটূক্তির অভিযোগে হিন্দু যুবক গ্রেপ্তার
মেলবোর্ন, ২২ এপ্রিল- খুলনার দিঘলিয়া উপজেলায় মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কটূক্তির অভিযোগে শ্যামল গাইন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার…
মেলবোর্ন, ১৭ নভেম্বর- ঢাকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে রায় ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে আবারও অডিওবার্তা দিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দীর্ঘদিন ধরে দেশের বাইরে অবস্থান করলেও দলের নেতা, কর্মী এবং সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি নিয়মিতই ভার্চুয়ালি কথা বলেন। সোমবারের রায়কে ঘিরে উত্তেজনা বাড়তেই রবিবার গভীর রাতে তাঁর একটি নতুন অডিওবার্তা সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
সেখানে হাসিনা বলেন, তাঁকে নিয়ে যে রায়ই দেওয়া হোক, তিনি তা নিয়ে চিন্তিত নন। তাঁর ভাষায়, জীবন আল্লাহ দিয়েছেন, তিনিই নেবেন, তাই বিচার বা রায়ের ভয় তিনি করেন না। বার্তায় হাসিনা আরও দাবি করেন, আওয়ামী লীগ ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশে ফিরবে।
গত বছরের জুলাইয়ের গণআন্দোলনে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। আন্দোলনের চাপে পদত্যাগ করেন এবং ৫ আগস্ট ভারত পাড়ি দেন। এরপর থেকেই দিল্লির একটি সুরক্ষিত স্থানে তিনি অবস্থান করছেন। সেখান থেকেই মাঝে মাঝে নিজের দলের উদ্দেশে বক্তব্য পাঠান, যা আওয়ামী লীগের বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত হয়। সর্বশেষ বার্তায় তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসকে কঠোর সমালোচনা করেন এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিশোধের অভিযোগ তোলেন।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বার্তা দিয়েছেন হাসিনার পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়। কর্মসূত্রে যুক্তরাষ্ট্রেই থাকেন তিনি। সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর ধারণা ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে দোষী সাব্যস্ত করবে এবং মৃত্যুদণ্ডই হতে পারে সম্ভাব্য রায়। তবে তিনি জানান, এ নিয়ে তারা দুশ্চিন্তায় নেই, কারণ তাঁর মা ভারতে নিরাপদে আছেন। জয়ের ভাষায়, ট্রাইব্যুনাল কী রায় দেবে তা সবাই আগেই বুঝে গেছে এবং রায়ের সরাসরি সম্প্রচারও হবে। তিনি আরও বলেন, ভারত সরকার শেখ হাসিনার নিরাপত্তার পূর্ণ দায়িত্ব নিয়েছে, তাই রায় ঘোষণা হলেও তাঁর নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ নেই।
হাসিনার বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে। একই মামলায় আরও অভিযুক্ত রয়েছেন পূর্বের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান এবং পুলিশের সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। অভিযোগপত্রে উল্লেখ আছে, হাসিনা এবং আসাদুজ্জামান প্রথম থেকেই পলাতক।
সূত্র বলছে, হাসিনার মতো আসাদুজ্জামানও ভারতে আশ্রয় নিয়েছেন। তবে সাবেক আইজিপি আল-মামুনকে বাংলাদেশ পুলিশ গ্রেপ্তার করে এবং পরে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের সঙ্গে সহযোগিতায় রাজসাক্ষী হন। আদালতে দেওয়া তাঁর জবানবন্দিতে তিনি রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগকে সমর্থন করেছেন এবং জানিয়েছেন, মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনে হাসিনার ভূমিকা ছিল।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা জানিয়েছেন, রায় যাই হোক, সেটিই চূড়ান্ত হিসেবে মানতে হবে। নতুন আইনে অভিযুক্তদের আপিলের সুযোগ সীমিত করা হয়েছে এবং তাদের বলা হয়েছে, ট্রাইব্যুনালের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তারা বলছেন, রাষ্ট্রপক্ষ যে মৃত্যুদণ্ডের আবেদন জানিয়েছে, তা বিবেচনায় নেওয়া হবে বিচারিক প্রক্রিয়ার নিয়ম অনুযায়ী। রায় ঘোষণার আগে আগে এই সব বার্তা রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au