"আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চাই, জনগণের সমর্থন চাই এবং এই সরকারের উৎখাত চাই।”- মোহিবুল হাসান চৌধুরী IANS-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে। ছবি: বাংলাদেশ টুডে
মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর : আজ মঙ্গলবার ১৮ নভেম্বর থেকে সারাদেশে হরতাল এবং ১৯ নভেম্বর থেকে দেশজুড়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করার পর, বাংলাদেশের আওয়ামী লীগ সোমবার জানায়—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) “অবৈধ” ও “প্রহসনমূলক বিচার” করে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের পর তারা তাদের দলীয় কর্মীদের “শান্ত রাখার চেষ্টা করছে”।
সাবেক মন্ত্রী মোহিবুল হাসান চৌধুরী IANS-কে এক সাক্ষাৎকারে বলেন,
“আগামী দিনে অবশ্যই সর্বত্র প্রতিবাদ হবে। আমরা আশঙ্কা করছি পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। আমরা আমাদের অনুসারীদের শান্ত রাখতে চেষ্টা করছি। আমরা সহিংসতা নয়, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকে উৎসাহ দিচ্ছি। আমরা বিএনপি, জামায়াত বা কথিত ছাত্র নেতাদের মতো নির্বিচারে মানুষ হত্যা, নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা বা সরকারি সম্পত্তি ধ্বংসের পথে যেতে চাই না। আমরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ চাই, জনগণের সমর্থন চাই এবং এই সরকারের উৎখাত চাই।”
চৌধুরীর মন্তব্য আসে সোমবার আইসিটির রায়ের কয়েক ঘণ্টা পর-যেখানে ২০২৪ সালের জুলাই মাসের আন্দোলন দমন সংশ্লিষ্ট মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়।
“পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে”
সাবেক শিক্ষা মন্ত্রী আরও বলেন,
“সত্যিকার তদন্ত, ন্যায়সঙ্গত বিচার বা রাজনৈতিক শক্তিগুলোর মধ্যে সমঝোতার পথ বেছে নেওয়ার পরিবর্তে তারা ধ্বংসাত্মক পথ নিয়েছে- যেখানে একতরফা আদালতে, সম্পূর্ণ অন্যায্য প্রক্রিয়ায় আমাদের নেত্রীকে বিচার করা হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াটাই ছিল প্রহসন। তাই আগামী দিনগুলো আরও অস্থিতিশীল, প্রতিবাদপূর্ণ ও বিশৃঙ্খল হবে বলে আমরা মনে করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন:
“এই বিচারপ্রক্রিয়ার কোনও অংশই ন্যায়সঙ্গত ছিল না। শুরু থেকেই এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে সাজানো হয়েছিল। আইন সংশোধনগুলো ছিল বেআইনি- কারণ এই অন্তর্বর্তী সরকার এসব সংশোধনী করার ক্ষমতা রাখে না। আসামিদের কোনো আইনজীবীও ছিল না। ঢাকার কয়েকজন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ হাসিনার পক্ষ নিতে চাইলে তাদের বাধা দেওয়া হয়। এর পরিবর্তে রাষ্ট্র একটি জামায়াত-সমর্থিত আইনজীবীকে শেখ হাসিনার পক্ষে নিয়োগ দেয়, যিনি প্রকৃতপক্ষে প্রসিকিউশনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করেছেন। সবকিছু আগেই লেখা ছিল- এই রায়ের লক্ষ্যই ছিল তাকে পরবর্তী নির্বাচনে অংশগ্রহণ থেকে বাদ দেওয়া।”
পাকিস্তানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ
সাবেক এই মন্ত্রী আরও বলেন,
“ভারত ইতোমধ্যেই জানে বাংলাদেশে কী হচ্ছে। পাকিস্তানি জঙ্গিগোষ্ঠী লস্কর-ই-তৈবা ও জইশ-ই-মোহাম্মদ ঘোষণা দিয়েছে যে তারা বাংলাদেশে শাখা খোলার পরিকল্পনা করছে। আইএসআই ঢাকার পাকিস্তান হাই কমিশন থেকে তাদের কার্যক্রম শুরু করেছে। পাকিস্তানি সামরিক কর্মকর্তারা নিয়মিত বাংলাদেশ সফর করছেন। বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করে পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা হচ্ছে।”
তিনি দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বাংলাদেশে আইএসআইকে কাজ করতে দেওয়া হয়নি এবং জঙ্গি নেটওয়ার্ক ধ্বংস করা হয়েছিল।
“কিন্তু এখন তারা যেন রাস্তায় নেমে সরকার চালাচ্ছে—পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করছে ইউসুফ ইউনুসের সরকারকে। এটি বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।”
“পাকিস্তানি গোয়েন্দাদের সাথে যোগসাজশ তাদের পতনের পথ তৈরি করবে”
চৌধুরী আরও বলেন,
“পাকিস্তানি সামরিক গোয়েন্দাদের সঙ্গে এই সরকারের সংযোগ শেষ পর্যন্ত তাদের নিজেদের পতনের কারণ হবে। তারা অল্পসংখ্যক লোক—জনগণের প্রতিনিধি নয়। যত দ্রুত তারা ক্ষমতা হারাবে, দেশের জন্য তত ভালো।”
তিনি যোগ করেন,
“সম্পূর্ণ অন্যায় ও বেআইনি রায়ের বিরুদ্ধে জনগণ ইতোমধ্যেই প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করেছে। আগামী দিনে আশা করি এই সরকার জনগণের হাতেই অপসারিত হবে। তবে বর্তমানে বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য পরিস্থিতি খুবই নেতিবাচক দেখাচ্ছে।”
সূত্র— IANS