ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ১৮ নভেম্বর- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর এক বছরের মধ্যে চারবার সংশোধনী আনে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের পর ১৭ অক্টোবর ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করা হয়। এর আগে ১৪ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিল করা হয়।
প্রথম সংশোধনী নভেম্বর ২০২৪ সালে আনা হয়। এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ট্রাইব্যুনাল এখন দেশের বাইরে সংঘটিত অপরাধও বিচার করতে পারবে। পাশাপাশি আদালত বিদেশি নাগরিকের ওপরও প্রযোজ্য হবে এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মীর ওপরও বিচার করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। মানবতাবিরোধী অপরাধের মধ্যে আক্রমণ, নিপীড়ন, গুম, যৌনদাসী, জোরপূর্বক গর্ভধারণ ও বন্ধ্যা করা অন্তর্ভুক্ত। ট্রাইব্যুনাল সাক্ষ্য ও নথি সংগ্রহ, অডিও-ভিডিও শোনা ও প্রদর্শনের পাশাপাশি ভার্চুয়াল শুনানি আয়োজনের ক্ষমতা পায়।
দ্বিতীয় সংশোধনী ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আনা হয়। এতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থনের সময় ছয় সপ্তাহ থেকে তিন সপ্তাহে কমানো হয় এবং ট্রাইব্যুনালকে অভিযুক্তের সম্পদ জব্দ, বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আর তল্লাশির জন্য অনুমতির প্রয়োজন না থাকার ক্ষমতা দেওয়া হয়। এর পর শেখ হাসিনার সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তৃতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে রাজনৈতিক দল, সংযুক্ত সংগঠন বা ব্যক্তি-গোষ্ঠীকে বিচারের আওতায় আনার বিধান যোগ করা হয়। চতুর্থ সংশোধনী ২০২৫ সালের ৬ অক্টোবর জারি করা হয়। এতে নতুন ধারা ২০(সি) যোগ করা হয়, যার মাধ্যমে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ দাখিলের পর কেউ নির্বাচনে প্রার্থী হতে পারবে না এবং নির্বাচিত থাকলেও পদ হারাবে। স্থানীয় সরকার বা সরকারি পদে নিয়োগও অব্যাহত থাকবে না। তবে ট্রাইব্যুনাল কাউকে খালাস দিলে এই ধারা প্রযোজ্য হবে না।
গেজেট প্রকাশিত হওয়ার পরেও সংশোধনীগুলো ভূতাপেক্ষ কার্যকারিতা পায়। অর্থাৎ, আইন কার্যকর হওয়ার তারিখের আগে সংঘটিত ঘটনাও এ ধারা অনুযায়ী বিচারযোগ্য হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করতে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। ২০১০ সালের ২৫ মার্চ তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেন। এর আগে ২০০৯ ও ২০১৩ সালে দুটি সংশোধনী আনা হয়েছিল।
এই ধারাবাহিক আইন সংশোধন ট্রাইব্যুনালের ক্ষমতা ও কার্যক্রমকে ব্যাপকভাবে সম্প্রসারিত করেছে এবং দেশের রাজনৈতিক ও বিচারিক পরিস্থিতিতে তা গভীর প্রভাব ফেলেছে।
সুত্রঃ সমকাল
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au