আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…
মেলবোর্ন, ১৯ নভেম্বর- মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার হোয়াইট হাউসে সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে স্বাগত জানিয়েছেন। সাত বছরের বেশি সময় পর এটি তার প্রথম হোয়াইট হাউস সফর।
২০১৮ সালে সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যাকাণ্ডের পর আন্তর্জাতিক সমালোচনার মুখে থাকা সৌদি ক্রাউন প্রিন্স যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আরও গভীর এবং নিজের বৈশ্বিক ভাবমূর্তি পুনর্গঠনের চেষ্টা করছেন।
সাউথ লনে তাকে বরণ করা হয় জমকালো আয়োজনে। ছিল সামরিক গার্ড, কামানের সালাম এবং মার্কিন যুদ্ধবিমানের ফ্লাইওভার। পরে ট্রাম্পের সঙ্গে হাসিমুখে করমর্দন করে তিনি ভেতরে প্রবেশ করেন। দুই নেতা প্রেসিডেন্টের অফিস কক্ষের বাইরের দেয়ালে ঝোলানো প্রতিকৃতিগুলোও দেখেন।
দুই দেশের আলোচনায় নিরাপত্তা সহযোগিতা, পারমাণবিক প্রযুক্তি এবং কয়েকশ’ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্য–বিনিয়োগ চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হবে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হওয়ার সম্ভাবনা নেই। ট্রাম্প চাপ দিলেও রিয়াদ এই ইস্যুতে এখনও সতর্ক অবস্থানে।
ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি এবং বিশ্বের শীর্ষ তেল রপ্তানিকারকের মধ্যে সম্পর্ককে তিনি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন। খাশোগি হত্যাকাণ্ড নিয়ে তুমুল আন্তর্জাতিক প্রতিবাদের পর সম্পর্ক ভীষণ ঠাণ্ডা হয়ে গেলেও এখন তা অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে।
মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা আগে জানিয়েছিল, খাশোগিকে আটক বা হত্যার অনুমোদন দেন ক্রাউন প্রিন্স নিজেই। যদিও তিনি সরাসরি হত্যার নির্দেশ অস্বীকার করেছিলেন, কিন্তু দেশটির কার্যত শাসক হিসেবে দায় স্বীকার করেছিলেন।
পুরো দিনজুড়ে হোয়াইট হাউসে নানান কূটনৈতিক আয়োজন ছিল। ওভাল অফিসে বৈঠক, মন্ত্রিসভা কক্ষে মধ্যাহ্নভোজ এবং রাতে ব্ল্যাক-টাই ডিনার। হোয়াইট হাউসের সামনে মার্কিন ও সৌদি পতাকায় সাজানো হয় বিশেষ সাজসজ্জা।
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্প সৌদি আরবের দেওয়া ৬০০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ প্রতিশ্রুতিকে আরও সম্প্রসারণে কাজ করছেন। প্রতিরক্ষা খাতে নতুন অস্ত্র বিক্রি, বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অবকাঠামোতে বড় বিনিয়োগের চুক্তি হতে পারে।
সৌদি আরব ৪৮টি এফ–৩৫ যুদ্ধবিমান কিনতে চেয়েছে। এটি অনুমোদন পেলে মধ্যপ্রাচ্যের সামরিক ভারসাম্যে বড় পরিবর্তন হতে পারে, কারণ এতদিন কেবল ইসরায়েলই এই বিমান পেয়েছিল।
সামরিক চাহিদার পাশাপাশি সৌদি নেতৃত্ব নতুন নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও চাইছে। ট্রাম্প কাতারের মতো একটি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে প্রতিরক্ষা নিশ্চয়তা দিতে পারেন, যদিও এটি ন্যাটোসদৃশ শক্তিশালী চুক্তি হবে না।
মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প মনে করছেন সৌদি আরবকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি, নিরাপত্তা, জ্বালানি ও প্রযুক্তির সঙ্গে আরও জোরালোভাবে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে চীনের প্রভাব কমানোর জন্য।
ইসরায়েলের সঙ্গে সৌদি সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের বিষয়ে ট্রাম্প চাপ অব্যাহত রাখবেন। তবে রিয়াদ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরিষ্কার রোডম্যাপ ছাড়া এমন পদক্ষেপে আগ্রহী নয়। গাজা যুদ্ধের পর এই ইস্যু আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
ট্রাম্প ২০২০ সালে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মরক্কো ও সুদানের সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক স্থাপনে অ্যাব্রাহাম অ্যাকর্ডস করিয়েছিলেন। তিনি সবসময় চেয়েছেন সৌদি আরব এই চুক্তিতে যুক্ত হোক।
বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল–সৌদি আলোচনা এগোতে না পারলেও যুক্তরাষ্ট্র–সৌদি নিরাপত্তা চুক্তি হওয়ার পথে বড় বাধা নেই। সৌদির যুক্তরাষ্ট্রে বড় বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি দুই দেশের প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও সহজ করতে পারে।
সুত্রঃ রয়টার্স
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au