চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ১৯ নভেম্বর- ঢাকা মহানগরে খুনের ঘটনা উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। চলতি বছরের প্রথম ১০ মাসে রাজধানীতে মোট ১৯৮টি হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। সংখ্যা অনুযায়ী প্রতি মাসেই গড়ে প্রায় ২০টি করে খুন হচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর পুলিশ জানায়, এই পরিসংখ্যানে নবজাতকের লাশ উদ্ধারের ঘটনাও অন্তর্ভুক্ত আছে। ডিএমপির গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, পারিবারিক কলহ, পুরনো বিরোধ এবং আধিপত্য বিস্তারসহ নানা কারণেই এসব হত্যাকাণ্ড ঘটছে। তবে ঢাকার জনসংখ্যা, আর্থসামাজিক বাস্তবতা এবং অপরাধচিত্র বিবেচনায় এই সংখ্যা এখনো নিয়ন্ত্রণযোগ্য পর্যায়েই আছে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলার রহস্য উদঘাটন করা হয়েছে এবং অভিযুক্তদের অনেককেই আইনের আওতায় আনা হয়েছে। পল্লবীতে যুবদল নেতা গোলাম কিবরিয়া হত্যার ঘটনাও তদন্তাধীন। একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকি দুজনকে ধরতে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে অবৈধ অস্ত্র এবং মাদকবিরোধী বিশেষ অভিযানে তিনজন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। নতুন শ্যামপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে জাহাঙ্গীর আলম টিটু, আব্দুর রাজ্জাক শানু এবং মোহাম্মদ মামুন নামের তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে তিনটি বিদেশি পিস্তল, তিনটি ম্যাগজিন, ৬০ রাউন্ড গুলি, ৮০০ পিস ইয়াবা এবং সাড়ে আট কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়েছে। ডিবির রমনা বিভাগের উপকমিশনার আমীর খসরু জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা এলাকায় মাদক স্পট নিয়ন্ত্রণ এবং বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে অস্ত্র ব্যবহার করত। তাদের বিরুদ্ধে আগেই একাধিক মামলা ছিল এবং নতুন করে কদমতলী থানায় দুটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ঢাকার বাইরে দেশের বিভিন্ন জায়গায়ও সাম্প্রতিক সময়ে একের পর এক ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড ঘটছে। মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত রাজনৈতিক সহিংসতায় ৬৫ জন, গণপিটুনিতে ৮৯ জন এবং বিভিন্ন কারণে ২২০ শিশু খুন হয়েছে। এসব ঘটনার পাশাপাশি আরও বহু হত্যাকাণ্ড ঘটেছে যা এই হিসাবের বাইরেই রয়ে গেছে। পুরান ঢাকায় যুবদলকর্মী লাল চাঁদ ওরফে সোহাগকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে হত্যা, চট্টগ্রামে ফাতেমা বেগমকে ১১ টুকরায় কেটে ফেলা, খুলনায় যুবদলের সাবেক নেতা মাহবুবুর রহমান মোল্লাকে গুলি করে এবং রগ কেটে হত্যা, চাঁদপুরে ইমামকে খুতবা পছন্দ না হওয়ায় হত্যাচেষ্টা, গাজীপুরে চুরির অপবাদে কিশোরকে পিটিয়ে হত্যা—এসব ঘটনা জনমনে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে। বরিশাল, নারায়ণগঞ্জ, খুলনা, কুমিল্লা, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সামান্য তুচ্ছ ঝগড়া থেকে শুরু করে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব, দাম্পত্য কলহ, জমি নিয়ে বিরোধ এমনকি সামাজিক মাধ্যমে অপমানিত হওয়ার মতো কারণেও খুনের ঘটনা ঘটছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে হত্যাকাণ্ড বেড়ে যাওয়ার পেছনে একসঙ্গে কাজ করছে কয়েকটি কারণ। সাবেক আইজিপি মোহাম্মদ নুরুল হুদা মনে করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্বলতা এবং অপরাধীদের মনে শাস্তির ভয় কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। তার মতে, দ্রুত তদন্ত, অপরাধীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ছাড়া এই প্রবণতা নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, আইন প্রয়োগের শূন্যতার সুযোগে বিকৃত মানসিকতার মানুষ ভয়ঙ্কর অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। তিনি মনে করেন, পারিবারিক শিক্ষা, সামাজিক দায়িত্ববোধ এবং রাষ্ট্রের কঠোর অবস্থান মিলেই এই অবস্থা থেকে বের হওয়া সম্ভব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক ড. তৌহিদুল হক বলেছেন, বিচারহীনতা, রাজনৈতিক অস্থিরতা, অর্থনৈতিক চাপ এবং ক্ষমতার অপব্যবহার অপরাধপ্রবণতা বাড়িয়ে তুলছে। তার মতে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর অবস্থানের পাশাপাশি পরিবার, সমাজ এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনা জরুরি।
পুরান ঢাকার সোহাগ হত্যার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল অবসরপ্রাপ্ত মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং পুলিশ তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিচ্ছে। তবে সাধারণ মানুষের প্রশ্ন রয়ে গেছে, প্রতিদিন কেন এমন ঘটনা ঘটছে এবং এর শেষ কোথায়। বিশ্বজিৎ দাস হত্যাকাণ্ডের মতো ঘটনায় দেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হলেও বছরের পর বছর নানা জায়গায় একই ধরনের নৃশংসতা ঘটছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বিচারপ্রক্রিয়া দ্রুততর না হলে, অপরাধীদের রক্ষা করার প্রবণতা বন্ধ না হলে এবং সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় থামানো না গেলে এই সহিংসতার বৃত্ত ভাঙা কঠিন হবে।
ওটিএন বাংলা ডেস্ক রিপোর্ট
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au