চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল।ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ১৯ নভেম্বর- এবার চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানির ব্যবস্থাপনায় ছেড়ে দেওয়ার উদ্যোগ দ্রুত এগিয়ে নিচ্ছে সরকার।
আগামী ডিসেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ডিপিওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির প্রস্তুতি চলছে। এই প্রক্রিয়া নিয়ে বন্দর এলাকায় উদ্বেগ বাড়ছে এবং প্রতিবাদও জোরালো হয়েছে।
এ জন্য গত ১৬ নভেম্বর বন্দর কর্তৃপক্ষ এনসিটির দরপত্র মূল্যায়নে সাত সদস্যের কমিটির প্রস্তাব করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে অনুমোদনের জন্য পাঠিয়েছে। কমিটির নেতৃত্বে আছেন অতিরিক্ত সচিব মো. মাহবুব আলম তালুকদার। প্রস্তাব অনুসারে মূল্যায়ন সম্পন্ন হলে চুক্তির পথে এগোবে বন্দর কর্তৃপক্ষ।
এর আগের দিন লালদিয়ার চরে নতুন টার্মিনাল নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য ডেনমার্কের এপিএম টার্মিনালসের সঙ্গে ৩৩ বছরের কনসেশন চুক্তি করা হয়। একই দিন পানগাঁও নৌ টার্মিনাল ২২ বছরের জন্য দেওয়া হয় সুইজারল্যান্ডভিত্তিক মেডলগ এসএকে।
তবে এনসিটি নিয়ে বন্দর কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আদালতে রিট হয়েছে। রিটকারীর আইনজীবী মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, শুনানি চলাকালে নতুন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া আদালত অবমাননার শামিল হতে পারে। বুধবার রুল শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
২০০৭ সালে নির্মিত এনসিটি বন্দরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলোর একটি। প্রায় ২ হাজার ৭১২ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত স্থাপনাটি আমদানি ও রপ্তানি কনটেইনার পরিবহনের প্রধান কেন্দ্র। বর্তমানে এটি পরিচালনা করছে নৌবাহিনীর প্রতিষ্ঠান চিটাগং ড্রাইডক লিমিটেড।
এসব প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বড়পোল এলাকায় মশাল মিছিল করে বন্দর রক্ষা পরিষদ। পোর্ট কানেকটিং সড়কে আয়োজিত মিছিলে বিদেশিদের কাছে বন্দর স্থাপনা হস্তান্তরের বিরোধিতা জানায় সংগঠনটি।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এনসিটি ও সিসিটির মতো লাভজনক স্থাপনা বিদেশিদের হাতে গেলে দেশের অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তারা সিদ্ধান্ত দ্রুত প্রত্যাহারের দাবি জানান।
সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন গণসংহতি আন্দোলনের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মারুফ।
বক্তারা জানান, আদালতের রায় না হওয়া পর্যন্ত এনসিটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। বিরোধিতা অব্যাহত রাখারও ঘোষণা দেন তারা।