‘সমাজ সংস্কার’-এর নামে গ্রামে নোটিশ জারি গানবাজনা বন্ধের ঘোষণা
মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার একটি গ্রামে ‘সমাজ সংস্কার’-এর কথা বলে গানবাজনা ও বাদ্যযন্ত্র বাজানো নিষিদ্ধ ঘোষণা করে নোটিশ জারি করেছিল স্থানীয় একটি জামে…
মেলবোর্ন, ২১ নভেম্বর- বাংলাদেশে দুর্নীতি দমন কমিশনকে ঘিরে নতুন বিতর্ক দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে। গত সেপ্টেম্বর দুদকের এক সহকারী পরিচালক ঘুষের অভিযোগে বরখাস্ত হওয়ার পর এবার অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া তথ্য বলছে, কমিশনের শীর্ষ পদও নাকি ১৬ মিলিয়ন ডলারের বিনিময়ে পাওয়া হয়েছে। অভিযোগগুলো এখনও গণমাধ্যমে প্রকাশ পায়নি, তবে এগুলো নিয়ে আলোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ড. মোহাম্মদ আবদুল মোমেন বিপুল অর্থের বিনিময়ে দুদকের চেয়ারম্যান নিযুক্ত হন। এই অর্থ অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সাজিব ভূঁইয়ার কাছে দেওয়া হয়েছে বলে দাবি করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি নিয়ে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কেউ স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি।
অন্তর্বর্তী সরকারের আগমন মুহূর্ত থেকেই দুর্নীতি দমনের অঙ্গীকার ছিল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস বলেছিলেন, দুর্নীতিমুক্ত না হলে দেশের ভবিষ্যৎ অন্ধকার। কিন্তু এক বছর পার হতে না হতেই সেই প্রচেষ্টাকে ঘিরেই আবার প্রশ্ন উঠছে।
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার কখনোই পুরোপুরি নিরপেক্ষ অবস্থানে ছিল না। আওয়ামী লীগকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলোও এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ধারার জন্য হুমকি বলে অভিহিত করেছে।
এই সময়ে দুদক ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ এনেছে। ২০২৪ সালের প্রতিবেদনে দেখা যায়, সংস্থাটি ৪৫১টি মামলা করলেও বছরের শুরুর প্রায় ৯০ শতাংশ মামলা প্রত্যাহার করা হয়েছে। অর্থাৎ ৫ আগস্টের অস্থিরতার পর ৩৫০টির বেশি নতুন মামলা নিবন্ধিত হয়েছে। অভিযোগগুলো মূলত সাবেক মন্ত্রী, সাংসদ, সরকারি কর্মকর্তাসহ ক্ষমতাসীন দলের ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে।
অভিযোগ বেড়েছে, কিন্তু সাজা কমেছে ২০ শতাংশ। এতে ধারণা জোরালো হয়েছে, অভিযোগের অনেকটাই রাজনৈতিক প্রতিশোধমূলক হতে পারে। তদন্ত ব্যবস্থাতেও এমন আভাস মিলেছে। প্রায়ই দেখা গেছে, প্রথমে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ তোলা হয়, এরপর সম্পদ জব্দ বা ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। কিন্তু হঠাৎ করেই কোন ব্যাখ্যা ছাড়াই অভিযুক্তকে বাদ দেওয়া হয়। জেমকন গ্রুপের বিরুদ্ধে মামলা হওয়ার এক মাসের মাথায় তাদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়া এমনই একটি ঘটনা।
দুদকের ভেতরকার দুর্নীতির অভিযোগ পুরো সংস্কার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থাকার দাবি এখন চাপে পড়েছে, বিশেষ করে নির্বাচন ঘনিয়ে আসায়।
বাংলাদেশ বর্তমানে তীব্র রাজনৈতিক বিভাজনের সময় পার করছে। বিভিন্ন গোষ্ঠী ক্ষমতা ধরে রাখতে বা বৃদ্ধি করতে লড়াই করছে। এমন পরিস্থিতিতে দুর্নীতি দমন বা সুশাসনের প্রচেষ্টা কতটা বাস্তব এবং কতটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, তা নিয়েই প্রধান বিতর্ক ঘনীভূত হচ্ছে।
দেশের ভবিষ্যৎ তাই অনিশ্চয়তার মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে, যেখানে দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ব্যক্তিকে নয়, রাষ্ট্রের পরিচালনাকে নিয়েও গভীর প্রশ্ন তুলছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au