চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২২ নভেম্বর- বাংলাদেশজুড়ে আঘাত হানা ভূমিকম্পে মৃত্যুর সংখ্যা একে একে বাড়ছে। নরসিংদীর মাধবদীকে কেন্দ্র করে রিখটার স্কেলে প্রায় ৫ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই কম্পন কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী হলেও ব্যাপক আতঙ্ক, ধস এবং প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সারা দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে পাওয়া তথ্য একত্র করলে এখন পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন কয়েকশ মানুষ।
নরসিংদী জেলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাধবদী, রায়পুরা ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন স্থাপনা, টিনশেড ঘর ও দেয়াল ভেঙে অন্তত পাঁচজনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ধসে পড়া ঘরের নিচে আটকে পড়া কয়েকজনকে উদ্ধার করা হয়েছে, তবে রাত পর্যন্ত উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত ছিল। সন্ধ্যা সোয়া ৬টা পর্যন্ত ৪ জন নিহত হয়েছেন।
রাজধানী ঢাকায়ও প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। পুরান ঢাকার আর্মানিটোলায় একটি বহুদিনের ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের রেলিং ভেঙে পড়ে তিনজনের মৃত্যু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, কম্পনের সময় ভবনের পুরোনো অংশগুলো কাঁপতে থাকে এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রেলিংটি ভেঙে নিচে পড়ে যায়।
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি দেয়াল ধসে সাত বছরের এক শিশুর জীবন ঝরে যায়। এলাকাবাসীর দাবি, দেয়ালে আগেই ফাটল ছিল। ভূমিকম্পের ঝাঁকুনিতে সেটি ভেঙে পড়ে শিশুটির ওপর। একই রাতে নরসিংদীতে আহত ছেলের পর চিকিৎসাধীন বাবারও মৃত্যু হয়েছে। পরিবার জানায়, ভূমিকম্পে বাড়ির অংশ ভেঙে দুজনই আহত হন।
দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ছোট-বড় আঘাত নিয়ে দুইশর বেশি মানুষ চিকিৎসা নিচ্ছেন। অনেকেই দৌড়াদৌড়ি, সিঁড়ি ভিড় অথবা ভাঙা অংশের আঘাতে আহত হন। জরুরি বিভাগগুলোতে অতিরিক্ত রোগীর চাপ তৈরি হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর মূল কেন্দ্র নরসিংদী ঘিরে প্রশ্ন উঠেছে কেন এই অঞ্চলেই বড় ধরনের কম্পন হলো। আবহাওয়াবিদ ও ভূকম্পবিদরা জানান, এলাকার নিচ দিয়ে একটি সক্রিয় ফল্ট লাইন রয়েছে। গত কয়েক বছরে এই ফল্টে চাপ জমে ছিল বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা সম্ভাব্য আফটারশক হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন, যদিও বড় ধরনের কম্পনের সম্ভাবনা খুব বেশি নয় বলে জানিয়েছেন।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি মূল্যায়নে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর জরুরি নির্দেশনা দিয়েছে। ভবন নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ফাটলধরা স্থাপনা শনাক্ত করা এবং সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় প্রশাসন ক্ষয়ক্ষতির হিসাব করতে কাজ শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের সংখ্যা বেশি হওয়ায় মাঝারি মাত্রার ভূমিকম্পেও বড় ক্ষতির ঝুঁকি রয়ে গেছে। তারা বলছেন, এই ঘটনায় দেশের বিল্ডিং সেফটি ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au