মেলবোর্ন, ২৩ নভেম্বর- ৪৭তম বিসিএসের লিখিত পরীক্ষা পেছানোর দাবিতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রায় সাত ঘণ্টা রেল যোগাযোগ বন্ধ করে রাখার পর শনিবার রাতে আন্দোলন স্থগিত করেছেন। তারা জানান, দাবি না মানা হলে রোববার থেকে রেল ও সড়ক অবরোধসহ কঠোর কর্মসূচিতে ফিরবেন।
অবরোধের কারণে ঢাকা–রাজশাহীসহ কয়েকটি রুটে পাঁচটি ট্রেনের শিডিউল ভেঙে যায়। বিভিন্ন স্টেশনে আটকে পড়েন চার হাজারের বেশি যাত্রী।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসংলগ্ন রেললাইনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করেন ৪৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীরা। এতে রাজশাহীর সঙ্গে দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এবং পরে রাত ৮টায় উপাচার্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে আন্দোলন বন্ধের অনুরোধ করলেও প্রথমে তারা রাজি হননি। রাত সোয়া ১০টার দিকে শিক্ষার্থীরা অবরোধ প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, আগের বিসিএসগুলোতে লিখিত পরীক্ষার জন্য ৬ থেকে ১১ মাস সময় দিলেও এবার মাত্র দুই মাস সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। তাদের মতে, এটি প্রথমবার পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য স্পষ্ট বৈষম্য।
আন্দোলন থেকে সরে এসে শিক্ষার্থী মাহবুব আলম বলেন, যাত্রীদের ভোগান্তি বিবেচনায় আজ তারা কর্মসূচি স্থগিত করছেন। তবে যৌক্তিক সময়সূচি প্রকাশ না হলে তারা আবারও রেল ও সড়ক অবরোধে যেতে বাধ্য হবেন।
রেলওয়ে কর্মকর্তারা জানান, বনলতা এক্সপ্রেস হরিয়ান স্টেশনে এবং পদ্মা এক্সপ্রেস রাজশাহী স্টেশনে আটকে ছিল। রহনপুর কমিউটার শীতলাই স্টেশনে থেমে যায়। ঢালারচর এক্সপ্রেসও নির্ধারিত সময়ে ছাড়তে পারেনি। এসব ট্রেনে মোট চার হাজারের বেশি যাত্রী অপেক্ষায় ছিলেন।
পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের সহকারী চিফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট আব্দুল আওয়াল বলেন, পাঁচটি ট্রেন বিভিন্ন স্টেশনে আটকে ছিল। কোনো যাত্রা বাতিল হয়নি, তবে বিপর্যস্ত সময়সূচির কারণে যাত্রীরা ভোগান্তিতে পড়েছেন।