ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে বিএনপি–জামায়াত সংঘর্ষ, নিহত ১
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলায় ঈদগাহ মাঠে ঈদের নামাজ পড়ানোর ইমাম নিয়োগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াত নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে…
মেলবোর্ন, ২৩ নভেম্বর- ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে অস্বাভাবিক ধরনের নড়াচড়া দেখা যাচ্ছে। কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকায় আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। এতে দলটির দীর্ঘদিনের ভোটব্যাংক নিয়ে নতুন প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। মাঠপর্যায়ের তৎপরতায় সবচেয়ে সক্রিয় জামায়াতে ইসলামী, বিএনপি এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি। তিন দলই নৌকার ঐতিহ্যবাহী সমর্থকদের নিজেদের দিকে টানতে নানা কৌশল নিয়েছে।
গোপালগঞ্জে পরিস্থিতি বিশেষভাবে আলোচিত, কারণ এটি আওয়ামী লীগের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি। দীর্ঘদিন ধরে তিনটি আসনেই নৌকা প্রতীক বড় ব্যবধানে জয়ী হয়ে আসছে। এবার সেখানে জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী দিয়েছে এবং তারা সরাসরি নৌকার ভোটারদের নিরাপত্তা ও সহায়তার আশ্বাস দিয়ে মাঠে নেমেছে। গোপালগঞ্জ ২ আসনে জামায়াতের সম্ভাব্য প্রার্থী আজমল হোসেন সরদার বলছেন, স্থানীয় আওয়ামী সমর্থকদের সঙ্গে পারিবারিক ও সামাজিক সম্পর্কই তার ভরসা। তিনি দাবি করেন, বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত আওয়ামী সমর্থকদের সহায়তা করায় অনেকেই তাদের প্রতি ইতিবাচক হচ্ছেন।
এই আসনেই বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী কে এম বাবর প্রচারণা চালাচ্ছেন ভিন্ন কৌশলে। তিনি বলছেন, নৌকা নেই ধরে নিতে হবে গণমানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি হিসেবে ধানের শীষকে ভোট দেবে। প্রার্থীর প্রতিশ্রুতি, নির্বাচনে জিতলে বিরোধীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ বা হয়রানির রাজনীতি করবে না বিএনপি।
এদিকে এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা বলছেন, নৌকার ভোটব্যাংক এতটা শক্ত নয়। তাদের বিশ্লেষণ, তরুণ ভোটারদের একটি বড় অংশ গণঅভ্যুত্থানের পর দলীয় আনুগত্যে পরিবর্তন এনেছে। এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব মনে করেন, ভোট টানার চেয়ে ভালো নেতৃত্ব দেখিয়ে মানুষকে প্রভাবিত করাই তাদের কৌশল।
জামায়াতে ইসলামী কেন্দ্রিয়ভাবেও আওয়ামী সমর্থকদের প্রতি নরম অবস্থান নিয়েছে। দলের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলছেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ ভোটাররা অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নন, তাই তারা নিরাপদ নেতৃত্বের খোঁজে নতুনভাবে রাজনৈতিক অবস্থান নেবেন। হিন্দু ভোটারদেরও গুরুত্ব দিয়ে জামায়াত বিভিন্ন এলাকায় সভা করছে।
অপরদিকে বিএনপি কেন্দ্রীয়ভাবে বলছে, তারা কোনো নির্দিষ্ট দলের ভোট টানার চেষ্টা করছে না। বরং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সবার অংশগ্রহণের রাজনীতি নিয়ে এগোচ্ছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ে দেখা যাচ্ছে আওয়ামী সমর্থকদের জন্য নানা আশ্বাস ও যোগাযোগ অব্যাহত।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেবে কিনা সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে নির্ধারক। দলটি না থাকলে নৌকার সমর্থকরা কোন দিকে যাবে, তা নির্ভর করবে প্রার্থী, স্থানীয় সম্পর্ক এবং সুরক্ষা নিশ্চয়তার ওপর। আর দলটি থাকলে ভোট সরাসরি নৌকার দিকে ফিরে আসতে পারে।
নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে এই ভোটব্যাংক নিয়ে প্রতিযোগিতা আরও তীব্র হবে, এমন ইঙ্গিতই এখন পাওয়া যাচ্ছে রাজনৈতিক মাঠের প্রতিটি কোণ থেকে।
সুত্রঃ বিবিসি বাংলা
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au