বুধবার আগুন পুড়ে গেছে সম্পূর্ণ প্যাভিলিয়ন। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৩ নভেম্বর- চীনের জিয়াংসু প্রদেশের ফেংহুয়াং পর্বতের চূড়ায় অবস্থিত জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক স্থাপনা ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়নে ভয়াবহ আগুনে পুড়ে গেছে। গত বুধবার আগুন লাগে কেবল একটি মোমবাতি ও ধূপ ব্যবহারের অসাবধানতা থেকে। তদন্তকারীরা নিশ্চিত করেছেন, একজন পর্যটকের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণই আগুনের সূত্রপাত ঘটায়।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনতলা কাঠের এই স্থাপনাটি মুহূর্তের মধ্যে আগুনে গ্রাস হয়। শিখা ও ধোঁয়ার অন্ধকার স্তম্ভ কয়েক কিলোমিটার দূর থেকেও দেখা গেছে। প্যাভিলিয়নের ছাদের বড় অংশ ভেঙে মাটিতে পড়ে। আগুনের তীব্রতা দেখে স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা আতঙ্কে পাহাড়ের পাদদেশে ছুটে যান।
ওয়েনচ্যাং প্যাভিলিয়নটি ২০০৯ সালে নির্মিত একটি আধুনিক স্থাপনা হলেও এতে স্থানীয় ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যশৈলীর অনুসরণ ছিল। এটি শতবর্ষ পুরোনো ইয়ংকিং মন্দিরের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হতো এবং এলাকায় একটি জনপ্রিয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল।
প্রশাসনের প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোমবাতির আগুনে সৃষ্ট তাপ দ্রুত কাঠের স্তম্ভে লেগে ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে গুরুতর দায়িত্বহীনতা বলে আখ্যা দিয়েছে। তাদের আশঙ্কা, অগ্নিকাণ্ডটি নিয়ন্ত্রণে না এলে পার্শ্ববর্তী বনাঞ্চলও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারত।
অগ্নিকাণ্ডে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, আগুন প্যাভিলিয়নের বাইরে ছড়ায়ওনি। তবে এই ঘটনা পর্যটকদের আচরণ এবং সাংস্কৃতিক স্থাপনায় নিরাপত্তা মানা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। ২০২৩ সালে গানসু প্রদেশের শানডান গ্রেট বুদ্ধ টেম্পলে আগুনের মতো স্মৃতিও আবার সামনে এসেছে।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, তদন্ত শেষে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হবে। একই স্থাপত্যশৈলী বজায় রেখে প্যাভিলিয়নটি পুনর্নির্মাণের প্রস্তুতিও চলছে। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে পুনর্গঠনের পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ করা হবে।