চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৬ নভেম্বর- বাংলাদেশে এক বাউলশিল্পীকে গ্রেপ্তারের পর দেশজুড়ে নতুন উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও অবমাননার অভিযোগে শিল্পী আবুল সরকারকে আটকের ঘটনায় শিক্ষাবিদ, সংস্কৃতিকর্মী ও নাগরিক সমাজ কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সরকারের পরিবর্তনের পর দেশে ধর্মীয় উগ্রতা এবং ‘মব টেরর’ বাড়ছে।
বাউল শিল্পীর বিরুদ্ধে মামলা ও সহিংসতা
বাউলশিল্পী আবুল সরকারকে ২০ নভেম্বর মাদারীপুরে এক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সময় গ্রেপ্তার করা হয়। স্থানীয় এক ইমামসহ পাঁচজন অভিযোগ করেন, তিনি ইসলামের বিরুদ্ধে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন। গ্রেপ্তারের দুদিন পর ঢাকার উত্তরে তাওহীদি জনতা ব্যানারে সংগঠিত একটি হামলায় আরও চারজন বাউলশিল্পী গুরুতর আহত হন।
বাউলরা সাধারণত আধ্যাত্মিক গান গেয়ে মানবধর্ম, সহনশীলতা ও মুক্তচিন্তার বার্তা দেন। লালন শাহের ধারার এই সম্প্রদায়ের ইতিহাস বাংলায় বহু পুরোনো।
ধর্মীয় উগ্রতার অভিযোগ
নাগরিক সমাজের অন্তত ২৫০ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি এক বিবৃতিতে জানান, ২০২৪ সালে শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর ধর্মীয় চরমপন্থা বেড়েছে। তাদের ভাষায়, একটি গোষ্ঠী নিজেকে ইসলামের একমাত্র প্রতিনিধিরূপে দাঁড় করিয়ে দেশজুড়ে ভিন্নমত দমন করছে।
বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০০টির বেশি মাজার ভাঙচুর, মানুষকে কাফির-মুরতাদ ঘোষণা, মৃতদেহ কবর থেকে তুলে পুড়িয়ে ফেলা, বাউল ও ফকিরদের চুল কেটে দেওয়া, নারীদের পোশাক ও চলাফেরায় হয়রানি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ভেঙে দেওয়া, এমনকি ক্রীড়া ও মেলার কার্যক্রম পর্যন্ত বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনা ঘটছে।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এসব হামলা ঠেকাতে কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। বরং কিছু ক্ষেত্রে নীরবতা বা গড়িমসির মাধ্যমে উগ্র গোষ্ঠীগুলোকে উৎসাহিত করছে।
স্বাধীন মতপ্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন
মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, গ্রেপ্তারের পর থেকেই বাউলদের ওপর যে হামলা চলছে তা উদ্বেগজনক। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশও বলেছে, এসব ঘটনা দেশে ধর্মীয় সম্প্রীতির প্রতি বৈরিতা বাড়ার ইঙ্গিত দেয়।
কবি ও সমাজচিন্তক ফরহাদ মজহার রাজধানীতে এক সমাবেশে বলেন, বাংলাদেশে নতুন ধরনের ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ তৈরি হচ্ছে। তার ভাষায়, “তাকে গ্রেপ্তার মানে আমাকে গ্রেপ্তার করা।”
সরকারের প্রতিক্রিয়া
অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী ফেসবুকে লিখেছেন, বিষয়টি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সরকার দায়িত্বের সঙ্গে সামলানোর চেষ্টা করছে। তিনি স্বীকার করেন, বাউল নির্যাতন নতুন ঘটনা নয়। আগের সরকারগুলোর সময়ও তাদের ওপর হামলা হয়েছে।
ইউনুস সরকারের প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাউলশিল্পীদের ওপর হামলা নিন্দনীয় এবং দায়ীদের শনাক্তে প্রশাসন কাজ করছে।
তবে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড মন্তব্য করেছে, শুধু নিন্দা যথেষ্ট নয়। অপরাধীরা যখন প্রকাশ্যে হামলা চালায় এবং দণ্ডহীনতা উপভোগ করে, তখন সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে। পত্রিকাটি ফারুকীর ব্যাখ্যাকে সরকার পরিবর্তনের অঙ্গীকারের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেছে।
বাউলশিল্পী আবুল সরকারের গ্রেপ্তার শুধু একটি মামলা বা অভিযোগের বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক পরিসরে বাড়তে থাকা অসহিষ্ণুতা ও ধর্মীয় উগ্রতার বহিঃপ্রকাশ। বিশ্লেষকদের মতে, এখন রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো শান্তি, সহনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা রক্ষায় দৃঢ় অবস্থান নেওয়া, নইলে সমাজের উদারচেতা ঐতিহ্য গুরুতর সংকটে পড়বে।
সূত্রঃ এনডিটিভি ওয়ার্ল্ড
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au