অভিযুক্ত অহিদুল ইসলাম অনিক। ছবি : সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৮ নভেম্বর- ময়মনসিংহের ত্রিশালে সরকারি নজরুল একাডেমি মাঠে মুনতাসীর ফাহিম নামে এক তরুণকে কুপিয়ে হত্যা করেছেন তার বন্ধু অহিদুল ইসলাম অনিক। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফাহিমের বয়স ২২ বছর। তিনি ত্রিশাল ইউনিয়নের চিকনা মনোহর গ্রামের বাদল মিয়ার ছেলে। অভিযুক্ত অনিক ত্রিশাল পৌরসভার দরিরামপুর গ্রামের জহিরুল ইসলামের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, নজরুল একাডেমির ভোকেশনাল শাখার দক্ষিণ পাশে পানির ট্যাংকির কাছে অনিক চাইনিজ কুড়াল দিয়ে ফাহিমের ওপর হামলা চালায়। ঘটনার পরপরই ফাহিমের মৃত্যু হয়। রাত ৯টার দিকে অনিক রক্তমাখা চাইনিজ কুড়াল হাতে ত্রিশাল থানায় গিয়ে জানায়, সে নিজেই তার বন্ধু ফাহিমকে হত্যা করেছে। এরপর পুলিশ তাকে শান্ত করে হেফাজতে নেয় এবং তার তথ্য অনুযায়ী ঘটনাস্থল থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ফাহিমের লাশ উদ্ধার করে।
পুলিশ জানায়, থানায় এসে অনিক দাবি করে, ফাহিম তার জীবন নষ্ট করেছে, সেই কারণেই সে তাকে হত্যা করেছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অনিক খুনের কথা স্বীকার করেছে। পুলিশ বলছে, ব্যক্তিগত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিহত ফাহিমের পরিবার বলছে, চার মাস আগে মালয়েশিয়া থেকে দেশে ফেরে ফাহিম। তিনি সিটি ইউনিভার্সিটিতে পড়াশোনা করতেন এবং ২৫ ডিসেম্বর মালয়েশিয়ায় ফেরার কথা ছিল। ফাহিমের নানি মাকসুদা আক্তার বলেন, ফাহিম সাধারণত বাসায় থাকতেন, অনিকই তাকে প্রায় সময় ডেকে নিত। তাদের ধারণা, পরিকল্পিতভাবেই ফাহিমকে হত্যা করা হয়েছে।
ফাহিমের বাবা রেজাউল ইসলাম বাদল বলেন, কেন তার ছেলেকে হত্যা করা হলো তিনি তা বুঝতে পারছেন না। তিনি বলেন, তার ছেলে বিদেশে পড়াশোনা করত, ছুটিতে দেশে এসে কিছুদিন থাকছিল। হঠাৎ করে বন্ধুর হাতে এভাবে খুন হওয়া মেনে নেওয়া যায় না। তিনি দ্রুত ও কঠোর বিচারের দাবি জানান।
ত্রিশাল থানার ওসি (তদন্ত) শেখ গোলাম মোস্তফা রুবেল বলেন, অনিক রক্তমাখা অস্ত্রসহ থানায় এসে আত্মসমর্পণ করেছে এবং হত্যার কথা স্বীকার করেছে। তদন্ত চলছে। ত্রিশাল থানার ওসি মনসুর আহমেদ জানান, লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে এবং অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আইনি প্রক্রিয়া চলমান।