চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৮ নভেম্বর- বাংলাদেশে বাউল শিল্পীদের ওপর বর্বর হামলার ঘটনায় বিশ্বজুড়ে নিন্দা বাড়লেও এখনো কেউ এখনও গ্রেপ্তার হয়নি। হামলাকারীদের মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে এমন একাধিক ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে, কিন্তু কাউকে আটক করেনি পুলিশ। এ নিয়ে সমালোচনার মুখে রয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনুসের প্রশাসন।
বর্তমানে বাংলাদেশ পরিচালিত হচ্ছে প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের মাধ্যমে। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্রসেবা একাডেমিতে ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেন, বাউল শিল্পীদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনায় দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, “আজকের উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই বিষয়টি আলোচনায় আসেনি। তবে যতদূর জানি, হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।”
বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার বরাতে তিনি জানান, মানিকগঞ্জ পুলিশ অভিযুক্তদের ধরতে এলাকায় তল্লাশি ও অভিযান চালাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, “যেখানেই এমন হামলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাৎক্ষণিক অভিযান চালাচ্ছে। খুব দ্রুতই ফল দেখা যাবে।”
গত কয়েক দিন ধরে সামাজিকমাধ্যমে বাউল শিল্পীদের ওপর হামলার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এসব ভিডিও বিশ্বজুড়ে নিন্দা কুড়িয়েছে এবং ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর লক্ষ্যভিত্তিক সহিংসতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বুধবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা জজকোর্টের কাছে একটি চায়ের দোকানের সামনে বাউল সম্প্রদায়ের অন্তত তিনজন শিল্পী হঠাৎ হামলার শিকার হন। এতে তারা গুরুতর আহত হন।
এ ঘটনায় এখনো পর্যন্ত প্রধান উপদেষ্টা ও নোবেল বিজয়ী মুহাম্মদ ইউনুস কোনো মন্তব্য করেননি, যদিও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর জঙ্গিবাদী গোষ্ঠীর হামলা বেড়েই চলেছে।
ইউনেস্কো স্বীকৃত বাউলরা বাঙালির এক অনন্য আধ্যাত্মিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। একতারা, খোল, ঝুনঝুনিসহ বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রে গান, নৃত্য ও দর্শনের মাধ্যমে তারা আত্মিক মুক্তি ও মানবপ্রেমের বার্তা ছড়ান। তাদের সাধনার মধ্যে হিন্দু ভাবধারা ও সুফি দর্শনের মিল দেখা যায়।
কয়েক সপ্তাহ আগে বিখ্যাত বাউল শিল্পী মহারাজ আবুল সরকারকে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। অনেকেই মনে করেন, ইউনুস সরকারের সময়ে বাউল শিল্পীদের দমন এবং সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমবর্ধমান হামলা দেশের চরমপন্থার উত্থানের সংকেত দিচ্ছে।
বাউলদেরকে বাংলাদেশের সবচেয়ে শান্তিপ্রিয় ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক গোষ্ঠী হিসেবে ধরা হয়। তাদের নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হওয়ার জন্য সরকার তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছে।
সূত্রঃ এনডিটিভি
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au