চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২৯ নভেম্বর- কবি, লেখক এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ফরহাদ মজহার বলেছেন, ৫ আগস্টে ক্ষমতাচ্যুত হওয়া শক্তি শুধু রাজনৈতিকভাবে নয়, সমাজের মধ্যে গভীরভাবে প্রোথিত একটি ফ্যাসিবাদী মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ। তার মতে, এই ফ্যাসিবাদের দুটি রূপ আছে। একদিকে সেক্যুলার ফ্যাসিবাদ, অন্যদিকে ধর্মীয় ফ্যাসিবাদ। ধর্মের নামে অন্যের অধিকার ছিনিয়ে নেওয়া, হত্যা বা হত্যার হুমকি দেওয়া, অত্যাচার চালানো ধর্মীয় ফ্যাসিবাদের উদাহরণ। যারা মনে করেন তাদের ধর্মের ব্যাখ্যাই সবার জন্য বাধ্যতামূলক, তাদের প্রতি সতর্কতা জানিয়ে তিনি বলেন, ৫ আগস্টের ঘটনার পরিণতি যেন ভুলে না যান।
শুক্রবার বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বাউলদের ওপর ধারাবাহিক হামলা এবং বাউল আবুল সরকারের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে আয়োজিত সমাবেশ ও বিচারগানের অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। ‘সাধুগুরু ও ওলি-আউলিয়া আশেকান পরিষদ’ এবং ‘ভাববৈঠকী’ যৌথভাবে এ আয়োজন করে।
ফরহাদ মজহার বলেন, অত্যন্ত তুচ্ছ একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে যারা বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করছে, তাদেরও শেখ হাসিনার মত বিদায় নিতে হতে পারে। তিনি জানান, আবুল সরকারকে যখন গোয়েন্দারা আটক করে, তখন তিনি তাকে ফোন করে ঘটনাটি জানান। ফরহাদ মজহার বলেন, গোয়েন্দাদের তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে পালাগান কোনো অপরাধ নয়। এটি আমাদের ঐতিহ্য, যার মাধ্যমে কবিয়ালরা ধর্মতত্ত্ব ও দর্শনের জটিল বিষয় সাধারণ মানুষের কাছে সহজ করে তুলে ধরেন। এটি কখনো উসকানি বা অপরাধ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
তিনি একটি গোষ্ঠীর নাম উল্লেখ না করে বলেন, ৫ আগস্টের আগে তারা কোথায় ছিলেন। তখন শেখ হাসিনাকেই তারাই ‘কওমি জননী’ বলেছিলেন। আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে ধর্মকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ধর্মের কার্ড ব্যবহার করে ভোট নেওয়া উচিত নয়। এতে ধর্মকে রাজনৈতিক স্বার্থে কাজে লাগানো হয়, যা ক্ষতিকর।
তিনি বলেন, অতীতে শেখ হাসিনার সঙ্গে হাত মিলিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের ওপর গুলি চালানো হয়েছিল। তখন যারা আজ ধর্মের নামে প্রতিবাদ করছে, তারা নীরব ছিল। ফরহাদ মজহার প্রশ্ন তোলেন, একজন বাউল শিল্পী কীভাবে কারও ইমান নষ্ট করতে পারে। ইমান যদি এতই দুর্বল হয়, তাহলে তা রক্ষা করতে শক্তি প্রয়োগের প্রয়োজন হয় কেন।
অনুষ্ঠানে আবুল সরকারের স্ত্রী আলেয়া বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বাউলদের আশ্রয়স্থল হলো মাজার ও দরবার। এখন যদি তাদের সেই জায়গাটিও ধ্বংস করা হয়, তাহলে তারা সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়বেন। তিনি অভিযোগ করেন, বাউলদের দেখলেই হামলা করা হচ্ছে এবং স্লোগান দেওয়া হচ্ছে ‘একটা একটা বাউল ধর, ধরে ধরে জবাই কর’। তার মতে, এই স্লোগান রাষ্ট্রবিরোধী এবং আইনবিরুদ্ধ। তিনি প্রশ্ন তোলেন, ১২ বছরের একটি শিশু পর্যন্ত কীভাবে এমন ভয়াবহ স্লোগান মুখস্থ করছে।
দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বাউল শিল্পীরাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন এবং হামলা ও ভয়ভীতি থেকে মুক্ত নিরাপদ পরিবেশের দাবি জানান।
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au