প্রখ্যাত শিক্ষাবিদ, সরকারি প্রশাসক এবং আইনজীবী শান্তি রঞ্জন রায়। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২৯ নভেম্বর- দেশের শিক্ষাঙ্গন, সরকারি প্রশাসন এবং আইন অঙ্গনের সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব শান্তি রঞ্জন রায় আর নেই। বুধবার তিনি ঢাকার একটি স্পেশালাইজড হাসপাতালে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স ছিল ৮৪ বছর। ১৯৪১ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি জন্ম নেওয়া এই গুণী ব্যক্তি দীর্ঘ কর্মজীবনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করে দেশকে সেবা দিয়েছেন। বৃহস্পতিবার তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।
শান্তি রঞ্জন রায় শিক্ষকতা দিয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। অমতলীর এমইউ গার্লস হাই স্কুলে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি অমতলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ হন। পরে সরকারি প্রশাসনে যোগ দিয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে উপসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘদিন সরকারি দায়িত্ব পালনের পর তিনি হোটেল ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের পরিচালক হিসেবে অবসর নেন।
অবসর গ্রহণের পরও তিনি পেশাগত জীবন থামাননি। সুপ্রিম কোর্টে আইনজীবী হিসেবে কাজ করে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় নিজেকে নিয়োজিত রাখেন।
মৃত্যুর সময় তিনি পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। বড় পুত্র ড. অভিজিৎ রায়, দ্বিতীয় পুত্র ড. শুভজিৎ রায়, তৃতীয় পুত্র ইঞ্জিনিয়ার দেবজিত রায়, চতুর্থ পুত্র ইঞ্জিনিয়ার ইন্দ্রজিৎ রায় এবং একমাত্র কন্যা ইঞ্জিনিয়ার সঙ্গীতা রায় বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় কর্মরত। তাদের পরিবার বিভিন্ন পেশায় যুক্ত। তার স্ত্রী অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক গীতা দেবী । এবং তার আরেক মেয়ে সঙ্গীতা এবং ছেলে দেবজিৎ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে আছেন।
পরিবার, সহকর্মী এবং শুভানুধ্যায়ীরা জানিয়েছেন, শান্তি রঞ্জন রায় ছিলেন সততা, শৃঙ্খলা এবং মানবিকতার এক উজ্জ্বল উদাহরণ। তার মৃত্যু শিক্ষা, প্রশাসন এবং আইন অঙ্গনে এক অপূরণীয় ক্ষতি।