ফরহাদ মজাহার। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ নভেম্বর- অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সেনাবাহিনীকে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রখ্যাত কবি ও চিন্তক ফরহাদ মজহার। একটি বেসরকারি গণমাধ্যমে দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন।
সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্ন ছিল, পাঁচ আগস্টের পর দেশে যে পরিবর্তনের আকাঙ্খা তৈরি হয়েছিল তা এখন উল্টো হতাশায় পরিণত হয়েছে। অনেকে বলছেন যারা ফ্যাসিবাদ বিরোধী ছিলেন তারা নিজেরাই এখন ফ্যাসিবাদী আচরণ করছেন। পরিস্থিতি কি সত্যিই এমন পর্যায়ে গেছে। জবাবে ফরহাদ মজহার বলেন, অবশ্যই। তার ভাষায়, আট আগস্টের পর দেশে একটি সাংবিধানিক প্রতিবিপ্লব ঘটেছে এবং পরিস্থিতি ক্রমশ খারাপের দিকে যাচ্ছে। তার মতে, সবচেয়ে বড় বিপদ হলো ড. ইউনূস সেনাবাহিনীকে অস্বাভাবিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছেন, কারণ পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থাপনার দায় এখন সেনাবাহিনীর ওপর চাপানো হয়েছে।
তিনি বলেন, নির্বাচনের সময় কোনো এলাকায় উত্তেজনা বা সংঘর্ষ সৃষ্টি হলে গুলি চালানোর দায়িত্ব সেনাবাহিনীর ওপর বর্তাবে। সে দায়ও তাদেরই নিতে হবে। এ পরিস্থিতিকে তিনি সেনাবাহিনীর জন্য ভয়াবহ বলছেন। তার বক্তব্য, বছরের পর বছর যাদের ক্যান্টনমেন্টের বাইরে রাজনৈতিক দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে, এখন তাদের ম্যাজিস্ট্রেসির দায়িত্ব দিয়ে মাঠে নামানো হচ্ছে। এতে সেনাবাহিনী ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ফরহাদ মজহার আরও বলেন, সিভিল প্রশাসনের কাজ সেনাবাহিনীর নয়। অথচ সরকার পুলিশ প্রশাসনকে সঠিকভাবে কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, আগের বিএনপি সরকার র্যাব গঠন করেছিল। এই বাহিনী তৈরির মাধ্যমে সেনাবাহিনীকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে এনে এমন একটি কাঠামো তৈরি হয়েছিল যেখানে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিং এবং নিরস্ত্র মানুষ হত্যা প্রশিক্ষণকে স্বাভাবিক করা হয়েছিল। তার মতে, সেখান থেকেই সেনাবাহিনীর ভেতরে আয়নাঘরের মতো সংস্কৃতি তৈরি হয় এবং সমস্যার সূত্রপাত র্যাব গঠনের সময় থেকেই নিহিত ছিল।
সেনাবাহিনী প্রধান ওয়াকার উদ্দিনকে নিয়ে তিনি বলেন, ওয়াকারকে তিনি ব্যক্তিগতভাবে পছন্দ করেন এবং অনেকের বিরোধিতা থাকা সত্ত্বেও তাকে সমর্থন করেছেন। কিন্তু তিনি প্রশ্ন তোলেন, জুলাই ও আগস্টে মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম এবং হত্যার অভিযোগ থাকা কর্মকর্তাদের বিচার সামরিক আইনে করা হয়নি কেন। তার মতে, এ ধরনের মামলার বিচার দীর্ঘ আপিলে ঝুলে থাকার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে। এতে মনে হয় যেন পরিকল্পিতভাবে তাদের পার পেয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে।
ফরহাদ মজহার মনে করেন, সেনাবাহিনীর ভেতরে ইতিমধ্যে বিভাজন ও কোন্দল তৈরি হয়েছে। ছোট এবং তুলনামূলক দুর্বল একটি দেশের সেনাবাহিনীকে এমন পরিস্থিতিতে ফেলে দেওয়াকে তিনি ভয়াবহ ভুল হিসেবে অভিহিত করেন। তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত দেশের সামরিক শক্তিকে আরও দুর্বল করে দিয়েছে এবং এটি পুরো রাষ্ট্রের জন্য দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি তৈরি করেছে।