ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট পণ্য। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৩০ নভেম্বর- লালমনিরহাটের পাটগ্রামের বুড়িমারী স্থলবন্দর দিয়ে ভুটানের ট্রানজিট পণ্য ভারতে প্রবেশের অপেক্ষায় আটকে আছে। ভুটানের পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট পণ্য সড়কপথে ভুটানে পাঠানোর জন্য ভারত এখনো অনুমতি দেয়নি। এ কারণে থাইল্যান্ড থেকে সমুদ্রপথে আসা এই চালানটি বন্দরেই আটকে রয়েছে।
সূত্র জানায়, থাইল্যান্ডের ব্যাংককের আবিত ট্রেডিং কোম্পানি লিমিটেড ৮ সেপ্টেম্বর ভুটানের আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান আবিত ট্রেডিংয়ের জন্য ছয় ধরনের পণ্য পাঠায়। কনটেইনারে থাকা এসব পণ্যের মধ্যে ফল, জুস, জেলি, শুকনো ফল, লিচু স্বাদের ক্যান্ডি এবং শ্যাম্পু ছিল। ল্যাম চ্যাবাং বন্দর থেকে ছাড়ার পর ২২ সেপ্টেম্বর এগুলো চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়।
বাংলাদেশ ও ভুটানের মধ্যে ২০২৩ সালের ২২ মার্চ একটি প্রটোকল চুক্তি হয়। এরপর গত বছরের এপ্রিলে ভুটানে দুদেশের বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দর ও সড়কপথ এবং ভারতের সড়কপথ ব্যবহার করে ভুটানে দুইটি পরীক্ষামূলক ট্রানশিপমেন্ট চালান পাঠানো হবে।
এই সিদ্ধান্তের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে আসা প্রথম কনটেইনারটি সিঅ্যান্ডএফ প্রতিষ্ঠান এনএম ট্রেডিং করপোরেশন শুক্রবার বিকেল চারটায় বুড়িমারী স্থলবন্দরে আনে। এরপর ২৮ ও ২৯ নভেম্বর সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট বেনকো লিমিটেড কয়েকবার চেষ্টা করলেও ভারতের চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে কনটেইনারটি প্রবেশের অনুমতি পায়নি।
সংশ্লিষ্টরা জানায়, বাংলাদেশ থেকে ভারতের সড়কপথ হয়ে ভুটানে যাওয়ার জন্য যে অনুমোদন প্রয়োজন, তা এখনো চ্যাংড়াবান্ধা স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ পায়নি। ফলে কনটেইনারটি গাড়িসহ বুড়িমারী বন্দরের ইয়ার্ডেই পড়ে আছে।
বুড়িমারী সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য এবং বেনকো লিমিটেডের মালিক ফারুক হোসেন বলেন, চট্টগ্রাম থেকে আনা ভুটানের পরীক্ষামূলক চালানটি এখনো বুড়িমারীতে আটকে আছে। ভারত অনুমতি না দেওয়ায় পাঠানো যাচ্ছে না। অনুমতি মিললেই ভুটানে পাঠানো হবে।
বুড়িমারী বন্দর কর্তৃপক্ষের সহকারী পরিচালক (ট্রাফিক) মাহমুদুল হাসান জানান, শনিবার থেকেই ট্রানশিপমেন্ট কনটেইনারটি বন্দরের মাঠে রাখা হয়েছে।
বুড়িমারী স্থল শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার দেলোয়ার হোসেন বলেন, ভুটানের চালানের কাস্টমস প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। ভারতীয় কাস্টমস থেকে অনুমতি পেলেই পণ্য ভুটানের উদ্দেশে ছাড়তে পারবে।