মেলবোর্ন, ৩০ নভেম্বর- ভারতের ভূমিকম্পঝুঁকি শনাক্তকরণে ব্যবহৃত সিসমিক মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন মানচিত্রে প্রথমবারের মতো ‘জোন–৬’ নামে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ একটি শ্রেণি যোগ করা হয়েছে, যেখানে গোটা হিমালয় পর্বতমালাকে রাখা হয়েছে। বিজ্ঞানীদের মতে, এই পরিবর্তন দেশের ভূমিকম্প পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও নির্ভরযোগ্য ও সাম্প্রতিক তথ্য তুলে ধরছে।
আগে ভারতকে জোন–২ থেকে জোন–৫ পর্যন্ত চারটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে ভাগ করা হতো। নতুন তথ্যের ভিত্তিতে এখন দেখা যাচ্ছে, দেশের মোট ভূখণ্ডের ৬১ শতাংশ অঞ্চলই ভূমিকম্পপ্রবণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ভূতত্ত্ববিদদের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, অতীতে যেখানে তুলনামূলক কম সিসমিক স্টেশন ছিল, বর্তমানে সারা দেশে সেই সংখ্যা অনেক বেড়েছে। ফলে আগের মানচিত্রে অনুপস্থিত বা অজানা অনেক তথ্য এখন স্পষ্টভাবে পাওয়া যাচ্ছে। ইন্ডিয়ান ইনস্টিটিউট অফ সায়েন্স এডুকেশন অ্যান্ড রিসার্চ ভোপালের অধ্যাপক জ্যোতির্ময় মল্লিক বলেন, নতুন ডেটা ও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ এই মানচিত্র সংশোধনের প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে।
নতুন মানচিত্রে দেখা যায়, কলকাতা, মুম্বই, চেন্নাই, পুনে ও ভুবনেশ্বরের মতো বড় শহরগুলো মাঝারি ঝুঁকির জোন–৩ এ রয়েছে। রাজধানী দিল্লি এবং জম্মু–কাশ্মীর, উত্তরাখণ্ড, সিকিম ও হিমাচলপ্রদেশের বিস্তীর্ণ অংশ জোন–৪ বা উচ্চ ঝুঁকির শ্রেণিতে পড়েছে। কাশ্মীর উপত্যকা, উত্তর বিহার, উত্তর–পূর্ব ভারত, আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ এবং কচ্ছের রান অঞ্চল রয়েছে জোন–৫ এ।
গবেষকেরা বলছেন, হিমালয়কে আলাদা করে সর্বোচ্চ ঝুঁকির জোন–৬ এ রাখা হয়েছে কারণ এ অঞ্চল ভূতাত্ত্বিকভাবে অত্যন্ত সক্রিয়। ইন্ডিয়ান প্লেট ও ইউরেশিয়ান প্লেটের সংঘর্ষে গড়ে ওঠা এই পর্বতমালার নিচ দিয়ে তিনটি প্রধান চ্যুতিরেখা গেছে, যা বড় ধরনের ভূমিকম্প ঘটাতে পারে। দীর্ঘদিন ধরে কিছু চ্যুতিরেখা তুলনামূলক শান্ত থাকলেও গভীরে সৃষ্ট ভূমিকম্প গাঙ্গেয় সমভূমি পর্যন্ত প্রভাব ফেলতে পারে।
ভূতত্ত্ববিদদের মতে, নতুন মানচিত্র ঝুঁকি বাড়ায়নি বরং ঝুঁকির প্রকৃত চিত্র প্রকাশ করেছে। ফলে ভবিষ্যতে অবকাঠামো নির্মাণ, সেতু, ভবন ও নগর পরিকল্পনায় আরও সতর্কতা নেওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
সুত্রঃ এইসময়