মেলবোর্ন, ১ ডিসেম্বর- নয় মাস বন্ধ থাকার পর আবার পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ। দীর্ঘ নিষেধাজ্ঞা শেষে নীল পানি আর প্রবাল দ্বীপের সৌন্দর্য সরাসরি উপভোগের সুযোগ পাওয়ায় ভ্রমণপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। দ্বীপজুড়ে আবারও জেগে উঠেছে পর্যটন ব্যবসা।
সোমবার সকাল থেকে টেকনাফ জেটিঘাটে ভিড় দেখা যায় ভ্রমণপিপাসুদের। বহুদিন পর দ্বীপে যাওয়ার সুযোগ পাওয়ায় অনেকেই পরিবার ও বন্ধুদের সঙ্গে যাত্রা করেন। স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও জানিয়েছেন, দীর্ঘ বন্ধের পর পর্যটক ফিরে আসায় তাদের জীবিকায় স্বস্তি এসেছে।
টেকনাফ উপজেলা প্রশাসন জানায়, পরিবেশগত ঝুঁকি, নৌপথের অনিয়ম এবং দ্বীপের ধারণক্ষমতার চাপ কমাতে গত নয় মাস পর্যটন কার্যক্রম সীমিত ছিল। নিরাপত্তা ও নৌযান চলাচলের নতুন নিয়ম কার্যকর করে ধাপে ধাপে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
দ্বীপের হোটেল, রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টগুলোর মালিকরা বলেন, এতদিন ব্যবসা প্রায় বন্ধ ছিল। মৌসুমের শুরুর দিকেই পর্যটকের ঢল নামতে শুরু করায় তারা নতুন মৌসুম নিয়ে আশাবাদী।
ঢাকার গুলশান থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা মাহবুব রহমান বলেন, সেন্টমার্টিন যে সৌন্দর্য ধারণ করে তা দেশের অন্য কোথাও নেই। এতদিন ধরে অপেক্ষায় ছিলাম। আবার আসতে পেরে অসাধারণ লাগছে।
স্থানীয়রা জানান, পর্যটন পুনরায় সচল হলেও পরিবেশ রক্ষার নিয়ম কঠোরভাবে মানা প্রয়োজন। নৌপথে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন ও অনুমতি ছাড়া ছোট নৌযান চলাচল বন্ধে নজরদারি বাড়ানোর দাবি রয়েছে দীর্ঘদিনের।
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ধারণক্ষমতার বাইরে পর্যটক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না এবং নৌযান চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ বজায় থাকবে। নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করে পর্যটন কার্যক্রম টেকসই রাখাই এখন অগ্রাধিকার।
দীর্ঘ বিরতির পর সেন্টমার্টিনে পর্যটনের এই প্রত্যাবর্তন স্থানীয় অর্থনীতি ও দ্বীপের পরিবেশব্যবস্থার জন্য নতুন এক সম্ভাবনার সূচনা করেছে।