চাঁদা না পেয়ে কক্সবাজারে গণেশ পালকে কুপিয়ে হত্যা
মেলবোর্ন, ৮ মার্চ- কক্সবাজার শহরে বাড়ি নির্মাণের চাঁদা না দেওয়ার জেরে গণেশ পাল (২৯) নামে এক হিন্দু ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার (৭ মার্চ)…
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাজশাহীর চারঘাট থানাপাড়া পরিণত হয়েছিল মৃত্যুকূপে। সারদা পুলিশ একাডেমির চত্বরে পাকিস্তানি সেনারা সেদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে হত্যা করে। সেই ভয়াবহ দিনটি থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচেন অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম জিন্না। গণহত্যার ৫৪ বছর পরও রক্ত আর ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি তাকে শিউরে তোলে।
তৎকালীন সম্মান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিন্না সারদা পুলিশ একাডেমির পাশেই থাকতেন। আশপাশের গ্রামগুলোতে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল সাঁতার কেটে পদ্মা নদী পেরিয়ে ভারতে যাওয়া যাবে। এ ধারণায় নারী, পুরুষ, শিশু, পুলিশ সদস্য, ক্যাডেট কলেজের লোকজনসহ চারপাশের মানুষ চর এলাকায় জড়ো হন। দুপুর দুইটার দিকে এক পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে সেনারা সেখানে গিয়ে সবাইকে একত্র হতে বলে। উর্দুতে জানায়, মিটিং শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হবে।
নারী ও শিশুদের আলাদা করে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার পর চত্বরে রয়ে যায় প্রায় তেরোশো মানুষ। এর পরপরই শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। সেনারা যুবকদের নাম ধরে ডেকে সামনে দাঁড় করায়। একাডেমির ভাইকুল্লি ড্রাইভার শামসু, স্টেনোগ্রাফার গোলাম মোস্তফাসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওয়্যারলেসে তাড়াহুড়োর নির্দেশ আসায় সেনারা পরে প্রস্তুতি ছাড়াই ব্রাশফায়ার শুরু করে।
জিন্না জানান, লুঙ্গি পরে কাদা মাখা অবস্থায় লুকিয়ে থাকার পরও তাকে ডেকে নেয় সেনারা। নিজের ডাক নাম ‘জিন্না’ বলায় ক্যাপ্টেন তাকে সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের সঙ্গে আলাদা করে বসতে দেয়। তারপর শুরু হয় টানা ২০ থেকে ২৫ মিনিটের গুলিবর্ষণ। মানুষের আর্তনাদ থেমে যাওয়ার পর সৈন্যরা চারদিক ঘুরে দেখে কোথাও কেউ বেঁচে আছে কি না। যারা লাশের স্তূপ ভেদ করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের ওপর এলএমজি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজশাহীর চারঘাট থানাপাড়ায় শহীদ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ,ছবি : সংগৃহীত
এরপর আলাদা করে রাখা জিন্নাদের চরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জিন্না দেখেন, তার চাচা আজিজুল আলম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি পাকিস্তানি অফিসারের প্রতি প্রতিবাদ জানান। মুহূর্তেই ক্যাপ্টেন এগিয়ে গিয়ে তার কপালে গুলি করে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর জিন্নাদের লাশ একত্র করতে বলা হয়। স্তূপ করে রাখা লাশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তখনই তিনি প্রাণভিক্ষা করে বাঁচতে সক্ষম হন।
চারঘাট থানাপাড়ার এই গণহত্যায় প্রায় প্রতিটি পরিবার কাউকে না কাউকে হারিয়েছে। এত মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা যাদের রক্তে অর্জিত, তাদের স্মৃতি রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।
সূত্র: বিডিনিউজ
স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au