বাংলাদেশ

লাশের স্তূপ থেকে উঠে আসা একাত্তরের এক সাক্ষী

  • 2:19 pm - December 02, 2025
  • পঠিত হয়েছে:২০২ বার
অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম জিন্না, ছবি : সংগৃহীত

মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- ১৯৭১ সালের ১৩ এপ্রিল রাজশাহীর চারঘাট থানাপাড়া পরিণত হয়েছিল মৃত্যুকূপে। সারদা পুলিশ একাডেমির চত্বরে পাকিস্তানি সেনারা সেদিন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষকে হত্যা করে। সেই ভয়াবহ দিনটি থেকে অলৌকিকভাবে প্রাণে বাঁচেন অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম জিন্না। গণহত্যার ৫৪ বছর পরও রক্ত আর ধ্বংসযজ্ঞের স্মৃতি তাকে শিউরে তোলে।

তৎকালীন সম্মান চতুর্থ বর্ষের ছাত্র জিন্না সারদা পুলিশ একাডেমির পাশেই থাকতেন। আশপাশের গ্রামগুলোতে গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল সাঁতার কেটে পদ্মা নদী পেরিয়ে ভারতে যাওয়া যাবে। এ ধারণায় নারী, পুরুষ, শিশু, পুলিশ সদস্য, ক্যাডেট কলেজের লোকজনসহ চারপাশের মানুষ চর এলাকায় জড়ো হন। দুপুর দুইটার দিকে এক পাকিস্তানি ক্যাপ্টেনের নেতৃত্বে সেনারা সেখানে গিয়ে সবাইকে একত্র হতে বলে। উর্দুতে জানায়, মিটিং শেষে সবাইকে ছেড়ে দেওয়া হবে।

নারী ও শিশুদের আলাদা করে জোর করে সরিয়ে দেওয়ার পর চত্বরে রয়ে যায় প্রায় তেরোশো মানুষ। এর পরপরই শুরু হয় হত্যাযজ্ঞ। সেনারা যুবকদের নাম ধরে ডেকে সামনে দাঁড় করায়। একাডেমির ভাইকুল্লি ড্রাইভার শামসু, স্টেনোগ্রাফার গোলাম মোস্তফাসহ ১০ থেকে ১৫ জনকে খুব কাছ থেকে গুলি করে হত্যা করা হয়। ওয়্যারলেসে তাড়াহুড়োর নির্দেশ আসায় সেনারা পরে প্রস্তুতি ছাড়াই ব্রাশফায়ার শুরু করে।

জিন্না জানান, লুঙ্গি পরে কাদা মাখা অবস্থায় লুকিয়ে থাকার পরও তাকে ডেকে নেয় সেনারা। নিজের ডাক নাম ‘জিন্না’ বলায় ক্যাপ্টেন তাকে সঙ্গে থাকা আরও কয়েকজনের সঙ্গে আলাদা করে বসতে দেয়। তারপর শুরু হয় টানা ২০ থেকে ২৫ মিনিটের গুলিবর্ষণ। মানুষের আর্তনাদ থেমে যাওয়ার পর সৈন্যরা চারদিক ঘুরে দেখে কোথাও কেউ বেঁচে আছে কি না। যারা লাশের স্তূপ ভেদ করে বের হওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের ওপর এলএমজি চালিয়ে হত্যা করা হয়।

রাজশাহীর চারঘাট থানাপাড়ায় শহীদ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিসৌধ,ছবি : সংগৃহীত

এরপর আলাদা করে রাখা জিন্নাদের চরের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়। জিন্না দেখেন, তার চাচা আজিজুল আলম গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পড়ে আছেন। যন্ত্রণায় কাতরাতে কাতরাতে তিনি পাকিস্তানি অফিসারের প্রতি প্রতিবাদ জানান। মুহূর্তেই ক্যাপ্টেন এগিয়ে গিয়ে তার কপালে গুলি করে হত্যা করে। কিছুক্ষণ পর জিন্নাদের লাশ একত্র করতে বলা হয়। স্তূপ করে রাখা লাশে পেট্রল ঢেলে আগুন দেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। তখনই তিনি প্রাণভিক্ষা করে বাঁচতে সক্ষম হন।

চারঘাট থানাপাড়ার এই গণহত্যায় প্রায় প্রতিটি পরিবার কাউকে না কাউকে হারিয়েছে। এত মানুষের মৃত্যু সত্ত্বেও রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা আজও তৈরি হয়নি। অধ্যাপক জিন্নাতুল আলম মনে করেন, দেশের স্বাধীনতা যাদের রক্তে অর্জিত, তাদের স্মৃতি রক্ষায় রাষ্ট্র ও সমাজের আরও উদ্যোগী হওয়া প্রয়োজন।

সূত্র: বিডিনিউজ

এই শাখার আরও খবর

এয়ারবাস কেলেঙ্কারিতে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্টের ছেলে গ্রেপ্তার

এয়ারবাসের বিমান কেনাবেচায় ঘুষ নেওয়ার অভিযোগে শ্রীলঙ্কার সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহিন্দা রাজাপক্ষের ছেলে ও দেশটির সংসদ সদস্য নামাল রাজাপক্ষে গ্রেপ্তার হয়েছেন। শুক্রবার দেশটির দুর্নীতি দমন কর্তৃপক্ষ…

কিয়েভে রুশ ড্রোন হামলায় জ্বলছে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সদর দপ্তর

ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে দেশটির নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউর সদর দপ্তরে রুশ ড্রোন হামলা হয়েছে। শুক্রবার দিনের আলোতে গুরুত্বপূর্ণ এই সরকারি ভবনে সরাসরি ড্রোন আঘাত হানার ঘটনায়…

‘নো গ্যাস নো বিল, নো সার্ভিস নো ট্যাক্স’

গ্যাস সংকট ও নাগরিক সেবার ঘাটতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি গ্যাস…

দীর্ঘ সময় ইতালির ক্ষমতায় থাকা মেলোনিকে মোদির শুভেচ্ছা, কী ছিল বার্তায়?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইতালির সবচেয়ে দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নতুন রেকর্ড গড়েছেন জর্জিয়া মেলোনি। এই সাফল্যে তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র…

বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম ২০২২ সালের পর সর্বোচ্চ: জাতিসংঘ

জলবায়ু পরিবর্তন, যুদ্ধ এবং বাণিজ্যিক অস্থিরতার প্রভাবে বিশ্ববাজারে খাদ্যপণ্যের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। গত আগস্টে আন্তর্জাতিক খাদ্যপণ্যের মূল্যসূচক বেড়ে ২০২২ সালের নভেম্বরের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে…

অটো পাইলট মোডে মহাসড়কের মাঝখানে থেমে যায় টেসলা, পেছন থেকে ট্রাকের ধাক্কায় চালক নিহত

যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনায় গভীর রাতে ব্যস্ত মহাসড়কের মাঝখানে একটি টেসলা গাড়ি হঠাৎ সম্পূর্ণ থেমে যাওয়ার পর পেছন থেকে আসা বিশালাকৃতির ফোর্ড এফ-৩৫০ পিকআপ ট্রাকের ধাক্কায় গাড়িটির…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au