আটটি কুকুর ছানাকে বস্তাবন্দি করে পুকুরে ডুবিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ২ ডিসেম্বর- পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলা পরিষদের আবাসিক এলাকায় আটটি কুকুরছানাকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে হত্যার ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। সোমবার সকালে এই নির্মম ঘটনার পর পুকুরের ধারে মা কুকুরের আর্তনাদ স্থানীয়দের স্তব্ধ করে দেয়।
অভিযুক্ত নারীর নাম নিশি রহমান। তিনি ক্ষুদ্র কৃষক ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপক হাসানুর রহমান নয়নের স্ত্রী। সকালেই ঘটনা এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয়রা উপজেলা প্রশাসনকে জানায়। পরে জরুরি বৈঠক ডেকে অভিযুক্তকে সরকারি বাসা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি করা হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মীরা জানান, ছানাগুলো প্রায়ই বাসার দরজায় ডাকাডাকি করত। এতে বিরক্ত হয়ে নিশি রহমান সেগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। পুকুরের পাড়ে মা কুকুরটিকে সারাক্ষণ ছানাদের খুঁজতে খুঁজতে কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।
কুকুরছানাগুলোর মালিক ছিলেন সদ্য বদলি হওয়া ঈশ্বরদীর সাবেক নির্বাহী কর্মকর্তা সুবির কুমার দাশ। তিনি বর্তমানে ঝিনাইদহে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক হিসেবে কর্মরত। তাঁর কাছে খবর পৌঁছালে তিনি বলেন, ছানাগুলোর দেখভালের ব্যবস্থা করে এসেছিলেন। এমন নির্মম ঘটনার কথা শুনে তিনি আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছেন।
বর্তমান ইউএনও মো. মনিরুজ্জামান বলেন, ঘটনার পরপরই প্রশাসন ব্যবস্থা নিয়েছে। অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক পদক্ষেপ শুরু হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী কেয়ারটেকার জাহাঙ্গীর জানান, রোববার সন্ধ্যা থেকেই মা কুকুরটি ছানাদের খুঁজে পুরো আবাসিক এলাকা ঘুরে বেড়াচ্ছিল। খাবার দিলেও কিছু খাচ্ছিল না। পরে নয়নের ছোট ছেলে জানায়, তার মা ছানাগুলোকে বস্তায় ভরে পুকুরে ফেলেছে। পুকুরে গিয়ে বস্তা ভাসতে দেখা যায়। উদ্ধার করে খুলে দেখার পর নিশ্চিত হওয়া যায় ছানাগুলো মারা গেছে।
হাসানুর রহমান নয়ন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, স্ত্রী এমন কাজ করেছেন জেনে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। এ বিষয়ে আর কিছু বলতে চান না।
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, ঘটনাটি অমানবিক। মা কুকুরটিও অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। প্রশাসন দোষীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।
ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা মনে করছেন, পশু নির্যাতন রোধে কঠোর সচেতনতা ও আইনের প্রয়োগ জরুরি।