মেলবোর্ন, ৩ ডিসেম্বর- রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন জানিয়েছেন, ইউরোপ যুদ্ধের পথে হাঁটলে রাশিয়া তা মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত। ইউক্রেন সংঘাত নিয়ে একটি সম্ভাব্য চুক্তি ব্যাহত করার চেষ্টা করার অভিযোগ তিনি ইউরোপীয় নেতাদের বিরুদ্ধে তোলেন এমন সময়, যখন তিনি মস্কোয় যুক্তরাষ্ট্রের উচ্চপর্যায়ের দূতদের সঙ্গে বৈঠকের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার টানা কয়েক দিনের কূটনৈতিক আলোচনার পর বর্তমানে মস্কোয়ে অবস্থান করছেন। প্রায় চার বছর ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান ঘটাতে তাঁদের মধ্যস্থতায় উচ্চপর্যায়ের আলোচনা চলছে।
মস্কোয় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পুতিন বলেন, রাশিয়ার ইউরোপের সঙ্গে যুদ্ধে যাওয়ার কোনো ইচ্ছা নেই। তবে তার ভাষায়, ইউরোপ যদি যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, রাশিয়া এখনই প্রস্তুত। তিনি আরও বলেন, ইউরোপের নেতাদের শান্তির কোনো বাস্তব এজেন্ডা নেই এবং তারা যুদ্ধের দিকেই দেশগুলোকে ঠেলে দিচ্ছেন।
পুতিন অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি বা শান্তির জন্য যে প্রস্তাব তৈরি হচ্ছে, তা ইউরোপীয় নেতারাই পরিবর্তন করে জটিল করে ফেলেছেন। তাঁর দাবি, এসব পরিবর্তনের লক্ষ্য পুরো প্রক্রিয়াকে আটকে দেওয়া এবং রাশিয়ার জন্য অগ্রহণযোগ্য শর্ত আরোপ করা।
ওয়াশিংটন সংঘাতের অবসানে ২৮ দফার একটি খসড়া প্রস্তাব দিয়েছে। কিয়েভ ও ইউরোপের সমালোচনার মুখে প্রস্তাবটির কিছু অংশ সংশোধন করা হয়। তাঁদের মতে, মূল প্রস্তাব রাশিয়ার কয়েকটি কঠোর দাবির প্রতি অযথা সহানুভূতিশীল ছিল।
ট্রাম্প নিজেই যুদ্ধ শেষ করার পরিকল্পনার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। তবে ইউরোপের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ায় কিয়েভকে ভূখণ্ডসংক্রান্ত বিষয়ে রাশিয়ার দাবির কাছে নতি স্বীকার করতে বাধ্য করা হতে পারে। ইউরোপীয় দেশগুলো বলছে, ইউক্রেনের ওপর কোনো অন্যায্য শান্তিচুক্তি চাপিয়ে দেওয়া হলে তা বৃহত্তর নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি করবে।
এখন ট্রাম্পের দূতরা মস্কো ও কিয়েভ উভয় পক্ষের সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছেন।
সুত্রঃ এএফপি