মেলবোর্ন, ৪ ডিসেম্বর- ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় এক বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীকে পিকনিকের প্রলোভন দেখিয়ে ডেকে নিয়ে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, তার ভিডিও ধারণ এবং পরে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে গ্রেফতার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। বুধবার বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার এসআই শফিকুল ইসলাম সুমন। এর আগে রাতে ভুক্তভোগীর বোন বাদী হয়ে চার জনের বিরুদ্ধে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন।
গ্রেফতার চার জন হলেন দেলোয়ার ভূঁইয়া (২৬), তাজুল ইসলাম তাজ (২৩), শ্রাবণ সাহা (২৩) ও অন্তু দেওয়ান (২৮)। চার জনই গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থী। ভুক্তভোগী তরুণীও আশুলিয়ার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েন এবং পরিবারের সঙ্গে ধামরাই পৌরসভায় থাকেন।
মামলার এজাহারে উঠে এসেছে ঘটনার শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভয়াবহ বর্ণনা। জানা যায়, গত ৭ এপ্রিল সকাল ১১টার দিকে পিকনিকের কথা বলে অভিযুক্ত প্রথম তিন জন তাকে নিয়ে যায় আশুলিয়ার ফুলেরটেক এলাকার একটি বাসায়। সেখানে তাকে কোমল পানীয়ের সঙ্গে অজ্ঞান করার ওষুধ খাওয়ানো হয়। অচেতন হওয়ার পর তিনি বিকেল ৫টার দিকে জ্ঞান ফিরে দেখেন, বাসায় থাকা তিন জনই তাকে ধর্ষণ করেছে। তিনি টের পান যে তার অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ধারণ করা হয়েছে। চিৎকার করলে তাকে হুমকি দেওয়া হয় যে আইনি ব্যবস্থা নিলে এসব ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং অ্যাসিড হামলার ভয় দেখানো হয়।
এরপর কয়েক দফায় ভয়ভীতি দেখিয়ে তার কাছ থেকে মোট ৯৬ হাজার টাকা আদায় করে। ভয়াবহ নির্যাতন এখানেই থেমে থাকেনি। গত ৬ নভেম্বর সকালে আশুলিয়ার বাইশ মাইল এলাকায় তাকে আটকে চতুর্থ অভিযুক্তের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক করতে বলা হয়। রাজি না হলে প্রথম তিন জন তাকে মারধর করে এবং জোর করে নেশাজাতীয় বিষাক্ত পানীয় পান করায়। তাদের হাত থেকে মুক্ত হয়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে যান, যেখানে তিনি আবার অচেতন হয়ে পড়েন। প্রথমে তাকে গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়, পরে অবস্থা খারাপ হলে পাঠানো হয় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে।
তরুণী চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকতেই তার পরিবারের একজন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। সুস্থ হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেরার পর ২৬ নভেম্বর দুপুরে তিনি আবার অভিযুক্তদের মুখোমুখি হন। তারা তাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে দরজা আটকে অভিযোগ প্রত্যাহারের জন্য চাপ দেয় এবং নতুন করে জীবন শুরু করার পরামর্শ দেয়। এতে রাজি না হওয়ায় অভিযুক্তরা তাকে গালিগালাজ ও হুমকি দেয়।
ঘটনার পর ১৭ ঘণ্টা অভিযান চালিয়ে চার জনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানান আশুলিয়া থানার ওসি আব্দুল হান্নান। তিনি বলেন, “ভুক্তভোগীর করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করেছি। বৃহস্পতিবার তাদের আদালতে পাঠানো হবে।”