বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা পরবর্তী জেন-জিরা এখন রাজনীতির মাঠে: সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ

  • 6:06 am - December 05, 2025
  • পঠিত হয়েছে:১৫ বার
দলের আত্মপ্রকাশের দিন হাজারো মানুষ সমাবেশস্থলে জড়ো হয়ে দেখিয়েছিল তাদের প্রতি আগ্রহ। ছবিঃ সংগৃহীত

মেলবোর্ন,৫ ডিসেম্বর- বাংলাদেশে শেখ হাসিনার দীর্ঘ শাসনের অবসান ঘটানো ছাত্রনেতৃত্বাধীন আন্দোলন গত বছর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন আনে। যে তরুণেরা রাজপথে নেতৃত্ব দিয়েছিল, তারা আন্দোলন শেষে নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি বা এনসিপি নাম নিয়ে রাজনীতির মাঠে নামেন। দলের আত্মপ্রকাশের দিন হাজারো মানুষ সমাবেশস্থলে জড়ো হয়ে দেখিয়েছিল তাদের প্রতি আগ্রহ। কিন্তু রাজপথের প্রতাপকে ভোটে রূপান্তর করা যে সহজ নয়, সেটাই এখন স্পষ্ট হচ্ছে।

দল গঠনের অল্প সময়, সংগঠন দুর্বল

এনসিপির প্রধান নাহিদ ইসলাম খোলামেলাভাবে বলেন, তারা পর্যাপ্ত সময় পাননি সংগঠনকে দৃঢ় করার জন্য। ফলে কাঠামো দুর্বল, তহবিল সীমিত, লোকবল কম। তবুও তারা চ্যালেঞ্জ নিতে প্রস্তুত। নাহিদের বয়স মাত্র ২৭। গত বছর আন্দোলনে তিনি ছিলেন অন্যতম মুখ। আন্দোলন-পরবর্তী সময়ে তিনি নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন স্বল্প সময়ের জন্য।

ঢাকার একটি বহুতল ভবনের ছোট অফিসে বসে তিনি রয়টার্সকে বলেন, তারা নতুন দল হিসেবে ক্ষমতাকেন্দ্রিক রাজনীতির বাইরে একটি বিকল্প দিতে চান। অফিসের দেয়ালে আঁকা রয়েছে গণঅভ্যুত্থানের দৃশ্য, যা তাদের রাজনৈতিক যাত্রার প্রতীক।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) লোগো; ছবিঃ সংগৃহীত

জরিপ বলছে সমর্থন কম, তৃতীয় অবস্থানে দলটি

এনসিপি ঘোষণা দিয়েছে তারা দেশের প্রতিটি আসনে অর্থাৎ সব ৩০০টি আসনে প্রার্থী দেবে। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক আইআরআইয়ের ডিসেম্বরের জরিপে দেখা যায়, তাদের সমর্থন মাত্র ৬ শতাংশ। বিএনপি আছে ৩০ শতাংশে, আর জামায়াতের সমর্থন ২৬ শতাংশ। নবীন দল হিসেবে এত পিছিয়ে থাকা তাদের জন্য বড় বাধা।

আন্দোলনের সময় প্রকাশ্য মুখ ছিলেন প্রাপ্তি তাপসী। তিনি শুরুতে এনসিপির প্রতি আগ্রহী ছিলেন। কিন্তু পরে তিনি হতাশ হন। তার অভিযোগ, দলটি নিজেদের মধ্যপন্থী বলে পরিচয় দিলেও সংখ্যালঘু অধিকার, নারী অধিকারসহ গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে দৃঢ় অবস্থান নেয় না। নিলেও দেরিতে নেয়। ফলে সমর্থকদের ভরসা কমে যায়।

গত সেপ্টেম্বরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু নির্বাচনে এনসিপির একটি পদও না পাওয়া তাদের প্রতি হতাশার আরেকটি সূচক। অথচ এই বিশ্ববিদ্যালয়ই ছিল অভ্যুত্থানের কেন্দ্র।

জোটের আলোচনা ও ঝুঁকি

সংগঠনের দুর্বলতা, তহবিলের স্বল্পতা এবং জনপ্রিয়তা কম হওয়ায় এনসিপি বিএনপি ও জামায়াতসহ কয়েকটি দলের সঙ্গে জোটের আলোচনা করছে। দলের এক জ্যেষ্ঠ নেতা নাম না প্রকাশের শর্তে জানান, এককভাবে লড়াই করলে তাদের একটি আসন জেতার সম্ভাবনাও খুব কম।

তবে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জোট করলে এনসিপির ‘স্বাধীন ও বিপ্লবী’ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ মনে করেন, জোটে গেলে জনগণ আর তাদের আলাদা শক্তি হিসেবে নিয়ে ভাববে না। এছাড়া আন্দোলনের সময় ঐক্যবদ্ধ থাকা তরুণেরা পরে নিজ নিজ দলে ফিরে যায়। এনসিপিতে টিকে আছে কেবল অল্পসংখ্যক শিক্ষার্থী। ফলে তৃণমূল গঠন কঠিন হয়ে পড়েছে।

এদিকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলগুলোর রয়েছে দীর্ঘ দিনের নেটওয়ার্ক, তৃণমূলের শক্ত সংগঠন, আর্থিক সক্ষমতা। নতুন দল হিসেবে এনসিপিকে এসবের সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা কঠিন।

তহবিল সংগ্রহ বড় চ্যালেঞ্জ

নাহিদ ইসলাম জানান, প্রচারণায় অর্থের অভাব সবচেয়ে বড় বাধা। সদস্যদের চাকরির বেতন, অল্প অনুদান আর ক্রাউডফান্ডিংয়ের ওপর দলটি নির্ভর করছে। হাসনাত আবদুল্লাহ নামের ২৮ বছরের এক নেতা গ্রামে গ্রামে গিয়ে প্রচারণা করছেন এবং সোজাসাপ্টা বলে দিচ্ছেন যে তার টাকাপয়সা নেই। তিনি ভোটারদের বোঝাতে চান, একজন নেতার কাজ টাকা বিলানো নয় বরং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।

তবে দলের কিছু নেতার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ এনসিপির ভাবমূর্তিকে চাপে ফেলেছে। এনসিপি অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করছে তারা দুর্নীতির বিষয়ে কঠোর নীতি অনুসরণ করে।

তরুণদের টানতে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ

চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক তরুণ এনসিপির প্রতি আশাবাদী। তাদের বিশ্বাস, রাজনীতিতে টাকার প্রভাব ও পারিবারিক ক্ষমতার আধিপত্য ভেঙে এই দল নতুন মূল্যবোধ আনতে পারে।

মনজিলা রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, বিপ্লবে নেতৃত্ব দেওয়া এই তরুণেরা পরিবর্তন আনতে পারে, যদি তারা নিজেরা ক্ষমতার অপব্যবহার না করে।

নতুন দল হিসেবে এনসিপি প্রার্থী বাছাইয়ে অভিনব উদ্যোগ নেয়। মাত্র দুই দিনে তারা দেশের সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে এক হাজারের বেশি আবেদন সংগ্রহ করে। তরুণ নেতারা পরপর সাক্ষাৎকার নেন। এখানে রয়েছেন রিকশাচালক, যুদ্ধাহত শিক্ষার্থী, বিভিন্ন পেশার সাধারণ মানুষ। রিকশাচালক সুজন খান বলেন, মানুষ ভাবতে পারে তার সংসদে কিছু দেওয়ার নেই, কিন্তু সুযোগ পেলে তিনি দেখাতে চান কী পরিবর্তন আনা যায়।

একইভাবে কেমব্রিজে কর্মরত চিকিৎসক তাসনিম জারা বিদেশের ক্যারিয়ার ছেড়ে দলটিতে যোগ দিয়েছেন। তিনি চান রাজনীতিকে উন্মুক্ত করতে, ক্ষমতার বৃত্তকে পরিবার ও অর্থকেন্দ্রিকতা থেকে বের করে সাধারণ মানুষের হাতে দিতে।

বিএনপি নেতা মির্জা ফখরুলও মনে করেন, তরুণদের সঙ্গে যুক্ত থাকা ভবিষ্যতের রাজনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

ভবিষ্যতের চিন্তা, পরিবর্তনের আশা

এনসিপি নেতারা বলছেন তারা শুধু নির্বাচন নয়, দীর্ঘ মেয়াদে প্রতিষ্ঠানগত সংস্কারের বিষয়ে ভাবছেন। হাসনাত আবদুল্লাহর ভাষায়, জয় বা হার যাই হোক, নির্বাচন অংশগ্রহণই একটি পরিবর্তন। তারা মানুষকে দেখাতে চান নতুন প্রজন্ম ভিন্ন ধরনের রাজনীতি আনতে পারে।

সূত্রঃ রয়টার্স

এই শাখার আরও খবর

আরব আমিরাতের বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলার দাবি ইরানের

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। শনিবার দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি)…

মুন্সীগঞ্জে হিন্দু নারী কবিরাজ হত্যার রহস্য উদ্ঘাটন, প্রতিবেশী মীর হোসেন গ্রেপ্তার

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মুন্সীগঞ্জের সিরাজদীখানে হিন্দু নারী ও স্থানীয়ভাবে পরিচিত কবিরাজ রেখা রাণী রায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। দীর্ঘদিন…

ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে গ্রেপ্তার ৪, সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে ফুল দিতে এসে পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হয়েছেন চারজন। তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দিয়ে আদালতে…

এশিয়ান কাপ শেষে ইরানে ফেরা নিয়ে শঙ্কায় নারী ফুটবলাররা, অস্ট্রেলিয়ায় সুরক্ষার দাবি জোরালো

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ: ২০২৬ নারী এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় থাকা ইরানের নারী ফুটবল দলকে ঘিরে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবাধিকারকর্মী, ইরানি-অস্ট্রেলীয় কমিউনিটি এবং খেলোয়াড়দের অধিকার…

তেহরান ও ইসফাহানে ইসরায়েলের নতুন দফায় ‘ব্যাপক’ বিমান হামলা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানের রাজধানী তেহরান ও গুরুত্বপূর্ণ শহর ইসফাহানে নতুন দফা ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী…

প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ক্ষমা চাইলেন ইরানের প্রেসিডেন্ট, হামলা স্থগিতের ঘোষণা

মেলবোর্ন, ৭ মার্চ- মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর উদ্দেশে দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি বলেছেন, ইরানের অন্য কোনো দেশে আগ্রাসন চালানোর…

স্বত্ব © ওটিএন বাংলা - 2026 | গোপনীয়তা নীতিমালা | ব্যবহারের নীতিমালা | সম্পাদকীয় নীতিমালা | Proudly Developed by @SSB it.au