দিল্লি থেকে ইন্ডিগোর সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৫ ডিসেম্বর- ভারতের বৃহত্তম এয়ারলাইন ‘ইন্ডিগো’ শুক্রবার(৫ ডিসেম্বর) আকস্মিকভাবে কয়েকশ ফ্লাইট বাতিল করায় দেশজুড়ে আকাশ যোগাযোগে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে। এর আগে তিন দিন ধরে সংস্থাটির নেটওয়ার্কে কারিগরি ত্রুটি চলছিল।
ব্যস্ত ভ্রমণ মৌসুমে হঠাৎ ফ্লাইট বাতিলে হাজারো যাত্রী বিপাকে পড়েছেন। ভারতের রাজধানী দিল্লি থেকে ইন্ডিগোর সব ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। কলকাতায় বাতিল হয়েছে ২৬ টি ফ্লাইট। ইন্ডিগো দেশটির আকাশপথে ৬০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে প্রতিদিন দুই সহস্রাধিক ফ্লাইট পরিচালনা করে।
নতুন ক্রু রোস্টারিং নীতি মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় পাইলট সংকট দেখা দিয়েছে। নতুন নিয়মে পাইলটদের বেশি বিশ্রাম সময় দেওয়া হয়েছে। নিয়মে প্রতি সপ্তাহে রাতে অবতরণের সংখ্যা পূর্বের ছয়বার থেকে দুইবারে কমানো হয়েছে।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, ১০ ফেব্রুয়ারির আগে পুরোপুরি স্বাভাবিক কার্যক্রমে ফেরার সম্ভাবনা নেই। তারা নতুন নিয়ম থেকে সাময়িক ছাড় চেয়েছে এবং ৮ ডিসেম্বর থেকে ফ্লাইট সংখ্যা কমিয়ে সমস্যার পরিমাণ কমানোর পরিকল্পনা করেছে।
সরকার জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। কেন্দ্রীয় বিমান পরিবহন মন্ত্রী এয়ারলাইনের ব্যবস্থাপনা নিয়ে “স্পষ্ট অসন্তোষ” প্রকাশ করেছেন। বিমান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বলেছে, নতুন ফ্লাইট ডিউটি টাইম লিমিটেশন বাস্তবায়নে “ভুল হিসাব” ও “পরিকল্পনার ঘাটতি” থেকেই এই বিপর্যয় ঘটেছে। তারা ইন্ডিগোকে অবিলম্বে ক্রু নিয়োগ, প্রশিক্ষণ, রোস্টার পুনর্গঠন, নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন ও অন্যান্য প্রশমন পরিকল্পনা জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, ইন্ডিগো নতুন বিশ্রাম বিধি থেকে কিছু ছাড় পেয়েছে এবং পাইলটদের সাপ্তাহিক ছুটির সমন্বয় নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছে। তবে বিবিসি এই তথ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি।
ইন্ডিগো জানিয়েছে, ৫ থেকে ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে যাত্রীদের বাতিল বা পুনঃনির্ধারণের অনুরোধ ফি ছাড়া গ্রহণ করা হবে। ভ্রমণ ব্যাহত যাত্রীদের জন্য হোটেল ও খাদ্যের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে। তবুও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক যাত্রী হালনাগাদ তথ্য না পাওয়া এবং খাবার ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিমানবন্দরে আটকে থাকার অভিযোগ করেছেন।
সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনার সাইমন ওংও বিমানবন্দরে আটকে পড়া হাজারো মানুষের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি “বাকরুদ্ধ” এবং এই কারণে তার এক তরুণ সহকর্মীর বিয়েতে যেতে পারেননি।
এই পরিস্থিতিতে দিল্লি, মুম্বাইসহ দেশের বড় বিমানবন্দরগুলো যাত্রীদের ফ্লাইট রওনা হওয়ার আগে অবস্থার পরীক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছে।