মেলবোর্ন, ৭ ডিসেম্বর- এ বছর দেশে ৪ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া হয়েছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা একে দেশের রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন। শিশুদের জন্য টাইফয়েড এখনও একটি বড় ঝুঁকি, বিশেষ করে ঘনবসতিপূর্ণ শহর ও দূষিত পানি–নির্ভর এলাকায়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের একটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বছরজুড়ে পরিচালিত জাতীয় কর্মসূচির আওতায় বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র, স্কুল এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে টিকা দেওয়া হয়। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় সাড়া ছিল সন্তোষজনক, আর বেশির ভাগ অঞ্চলে টিকা কার্যক্রম নির্বিঘ্নেই সম্পন্ন হয়েছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, টাইফয়েড টিকা না শুধু রোগ প্রতিরোধে কার্যকর, বরং শিশুদের হাসপাতালে ভর্তির হার কমাতেও সহায়তা করছে। নগর অঞ্চলে পানির মান এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের কারণে টিকার গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ের তথ্য অনুযায়ী, টিকা নেওয়া শিশুদের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া খুবই কম দেখা গেছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগামী বছরও একই মাত্রার টিকাদান কর্মসূচি চালানো হবে এবং কঠিনভাবে পৌঁছানো যায় এমন এলাকাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সময়মতো টিকা দিলে শিশুদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকটাই কমে যায়। তাঁরা অভিভাবকদের নিয়মিত টিকা কর্মসূচিতে অংশ নিতে উৎসাহিত করেছেন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, টিকাদান কার্যক্রম বিস্তারের পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানি, স্যানিটেশন এবং খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে জনসচেতনতা গড়ে তোলার কাজও চলবে। সার্বিকভাবে চলতি বছরের টিকাদান সাফল্যকে তারা উৎসাহব্যঞ্জক বলে মন্তব্য করেছে।