বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। ছবিঃ সংগৃহীত
মেলবোর্ন, ৮ ডিসেম্বর- ঢাকার ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে বিএনপি আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ভার্চ্যুয়ালি বক্তব্য দেন তারেক রহমান। বিজয়ের মাস উপলক্ষে আয়োজন করা এই অনুষ্ঠানে তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জামায়াতের ভূমিকা স্মরণ করার আহ্বান জানান। তার বক্তব্যে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত এবং তাদের সহযোগীরা শুধু মানুষ হত্যা করেনি, অনেক এলাকায় মা-বোনদের সম্মানও লুণ্ঠন করেছিল। তারেক রহমানের মতে, যারা এখন ভোটের প্রসঙ্গে জামায়াতকে বিবেচনায় নেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তাঁদের উদ্দেশে মানুষকে ইতিহাস মনে করিয়ে দেওয়া দরকার।
অনুষ্ঠানে ছাত্রদলের হাজারের বেশি নেতা উপস্থিত ছিলেন। তাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ধর্মীয় বিষয় নিয়ে যেসব ব্যক্তি বা গোষ্ঠী মানুষকে ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করছে, সেগুলো স্পষ্টভাবে শিরকের পর্যায়ে পড়ে। তিনি ছাত্রনেতাদের অনুরোধ করেন ঘরে ঘরে গিয়ে মানুষকে বোঝাতে, ধর্মের নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, কিছু গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় এমনভাবে কথা বলছে যেন তারা ভবিষ্যৎ নিয়ে নিশ্চিত ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারে। তার মতে, এসব দাবি ধর্মীয়ভাবে ভুল এবং রাজনৈতিকভাবে বিভ্রান্তিকর। তিনি বলেন, যারা এখন বলে অমুককে দেখুন, তমুককে দেখুন, দেশের মানুষ তাদের ১৯৭১ সালেই দেখেছে। সেই একই গোষ্ঠী স্বাধীনতা লাভের পরও নিজেদের স্বার্থে নৃশংসতা চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দুর্নীতি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে দেশের সবচেয়ে বড় সংকট হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, জনগণের ভোটে ক্ষমতায় গেলে বিএনপি দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরবে এবং কঠোরভাবে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ করবে।
২০০১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের মন্ত্রিসভায় থাকা জামায়াত নেতা মতিউর রহমান নিজামী ও আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের প্রসঙ্গও তিনি উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, বিএনপি সরকারের শেষ দিন পর্যন্ত তাদের মন্ত্রিসভায় থাকা দুইটি বিষয়ই প্রমাণ করে যে তারা খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আস্থা রাখতেন এবং বিশ্বাস করতেন তিনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করছেন। তিনি আরও জানান, তারা আর জীবিত নেই, তাই তাদের নিয়ে সমালোচনা করা উচিত নয়, তবে তাদের অবস্থান থেকেই বিষয়টি স্পষ্ট।
বক্তৃতার একপর্যায়ে তিনি বলেন, দেশে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে এবং সামনে সময় আরও কঠিন হবে। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে এসব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করা সম্ভব।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করেন, একটি মহল ধর্মের নামে দেশে বিভাজন সৃষ্টি করতে চাইছে। তিনি বলেন, দেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও সমাজ বা রাষ্ট্রে ধর্মকে বিভাজনের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে বিএনপি।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন, বিএনপির বিরুদ্ধে নানা অপপ্রচার চলছে এবং সাইবার যুদ্ধে দলের সংগঠনগুলোকে দক্ষভাবে কাজ করতে হবে। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন রুহুল কবির রিজভী। উপস্থিত ছিলেন দলের বিভিন্ন শীর্ষ নেতা।
বিএনপি ক্ষমতায় গেলে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ক্রীড়া, কর্মসংস্থান, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডসহ আটটি বিষয়ে কীভাবে কাজ করবে তা নিয়ে বিএনপির সহযোগী সংগঠনগুলোর ধারাবাহিক কর্মশালা আগামী ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে। শেষ পর্যায়ে একটি সমাপনী আয়োজন করা হবে।