মেলবোর্ন, ৮ ডিসেম্বর- জাপানি যুদ্ধবিমানের ওপর চীনা সামরিক বিমানের রাডার লক করার ঘটনায় টোকিও কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে। ঘটনার পরপরই জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় চীনের রাষ্ট্রদূত উ জিয়াংহাওকে তলব করে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানায়। সাম্প্রতিক সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ঘটনাটি নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
জাপানের কর্মকর্তারা জানান, চীনের লিয়াওনিং বিমানবাহী রণতরী থেকে উড়াল দেওয়া জে-১৫ যুদ্ধবিমান শনিবার ওকিনাওয়ার নিকটবর্তী আন্তর্জাতিক জলসীমায় জাপানি বিমানের ওপর দুই দফা রাডার লক করে। এতে কেউ আহত হয়নি এবং কোনো সম্পদের ক্ষতি হয়নি। তবে এটি প্রথমবার যখন জাপান এমন একটি ঘটনা জনসমক্ষে আনল।
রাডার লক সাধারণত লক্ষ্যবস্তু শনাক্তকরণ কিংবা আগুন নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা প্রতিপক্ষের কাছে সরাসরি হুমকি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই জাপানের মতে, এই আচরণ আঞ্চলিক নিরাপত্তায় অযৌক্তিক ঝুঁকি সৃষ্টি করেছে।
চীন অবশ্য জাপানের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, জাপানি বিমানই বারবার তাদের নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ এলাকার খুব কাছে এসে উসকানি সৃষ্টি করেছে। বেইজিংয়ের দাবি, জাপানের বক্তব্য বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় এবং তাদের উচিত ‘অপবাদ ছড়ানো বন্ধ করা’।
জাপান এই ঘটনার সঙ্গে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও যুক্ত বলে মনে করছে। গত মাসে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি মন্তব্য করেছিলেন, তাইওয়ানের ওপর আগ্রাসন হলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে। চীন এটিকে কঠোরভাবে সমালোচনা করে, কারণ তারা তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে আসছে।
রাডার লকের ঘটনার পর জাপানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী তাকেহিরো ফুনাকোশি চীনা রাষ্ট্রদূতকে ডেকে বলেন, এই ধরনের আচরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক ও দুঃখজনক এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর জন্য দুই পক্ষেরই দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
সুত্রঃ এএফপি