প্রতি জেলায় একাডেমি থাকলে ফুটবলার তৈরি হবেই। ছবি: সংগৃহীত
মেলবোর্ন ৯ ডিসেম্বর- বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) সভাপতি তাবিদ আওয়াল দায়িত্ব নেওয়ার পর ফুটবলপ্রেমীদের মাঝে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। জাতীয় ফুটবলের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, অবকাঠামো উন্নয়ন, ঘরোয়া লিগ এবং কোচিং কাঠামো—সবকিছু নিয়েই কথা বললেন সিনিয়র রিপোর্টার শুভ দেবনাথের সাথে।
প্রশ্ন: দায়িত্ব নেওয়ার পর আপনার প্রথম অগ্রাধিকার কী ছিল?
তাবিদ আওয়াল: প্রথম দিন থেকেই লক্ষ্য ছিল প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দলবদ্ধ কাজ নিশ্চিত করা। বাফুফের ভেতরে যে সমন্বয়হীনতা ছিল, তা দূর করা ছাড়া এগোনো সম্ভব নয়। তাই শুরুতেই বিভাগগুলোকে পুনর্গঠন করেছি এবং প্রত্যেকের দায়িত্ব পরিষ্কারভাবে নির্ধারণ করেছি।
প্রশ্ন: বাংলাদেশ ফুটবলের উন্নয়নে কোন দিকটিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন?
তাবিদ আওয়াল: আমি মনে করি গ্রাসরুট–এই জায়গাটাই মূল ভিত্তি। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সী খেলোয়াড়দের নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি ডেভেলপমেন্ট স্কিম চালু করছি। দেশের প্রতিটি জেলায় ফুটবল অ্যাকাডেমি বা অন্তত ট্রেনিং সেন্টার থাকলে প্রতিভা হারিয়ে যাবে না।
প্রশ্ন: হামজা চৌধুরি বাংলাদেশে হয়ে খেলার পর ফুটবলের জাগরণ তৈরি হয়েছে, সেটি নিয়ে কি বলবেন?
তাবিদ আওয়াল: আমি দায়িত্ব নেয়ার পরই হামজাকে বাংলাদেশের জার্সিতে খেলাতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি। সেখানে সফল হয়েছি। এখন ফুটবলের নব জাগরণের কারণে৷ এখন ফুটবল আর পেছাবে না৷ শুধু এগিয়েই যাবে৷ সমিত সোমও কানাডার টপ লেভেলে খেলে। এছাড়া কিউবা, তারেক তারাও প্রবাসী বাংলাদেশী হয়েও বাংলাদেশের জন্য খেলে যাচ্ছেন। আমাদের স্পন্সর বাড়ছে। আগে টাকার জন্য দারে দারে ঘুরতে হয়েছে। এখন সেটা হয় না। আমরা বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচ থেকেও কোটি কোটি টাকা আয় করছি। সামনে আরো চমক দেখতে পাবেন।
প্রশ্ন: ঘরোয়া লিগ নিয়ে সমালোচনা আছে—দর্শক কম, আয়োজন দুর্বল। কী পরিবর্তন আশা করতে পারেন সমর্থকরা?
তাবিদ আওয়াল: ঘরোয়া লিগে স্বচ্ছ সূচি, উন্নত সম্প্রচার এবং ক্লাবগুলোর আর্থিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে। আমরা একটি সেন্ট্রাল রেভিনিউ মডেল নিয়ে কাজ করছি, যাতে ক্লাবগুলো টিভি রাইটস ও স্পনসরশিপের টাকা থেকে অংশ পাবে। দর্শকের অভ্যাস ফিরিয়ে আনতে জনপ্রিয় ক্লাবগুলোর ম্যাচ সপ্তাহান্তে নির্দিষ্ট সময়েই হবে।
প্রশ্ন: অবকাঠামোর উন্নয়ন নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?
তাবিদ আওয়াল: প্রতিটি বিভাগে একটি করে আধুনিক ফুটবল মাঠের কাজ চলবে। এছাড়া বাফুফে ভবনের সম্প্রসারণ, ইনডোর ট্রেনিং সুবিধা এবং জিম সুবিধা শক্তিশালী করা হচ্ছে। আমরা আন্তর্জাতিক মানের একটি ফুটবল টেকনিক্যাল সেন্টার নির্মাণের পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছি।
প্রশ্ন: নারী ফুটবলের সফলতা নিয়ে অনেকেই গর্বিত। আপনার পরিকল্পনায় নারী ফুটবল কতটা গুরুত্ব পাচ্ছে?
তাবিদ আওয়াল: নারী ফুটবলের উন্নতি আমাকে ব্যক্তিগতভাবে অনুপ্রাণিত করে। আমরা মেয়েদের জন্য আলাদা লিগ, আলাদা ট্রেনিং সেশন এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে আরও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করছি। আমাদের মেয়েরা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়া ছাড়িয়ে বড় প্রতিযোগিতায় নিয়মিত খেলবে—এটাই লক্ষ্য।
প্রশ্ন: ফুটবল প্রশাসনে স্বচ্ছতা—এ নিয়ে প্রায়ই অভিযোগ ওঠে। এ বিষয়ে আপনার বক্তব্য?
তাবিদ আওয়াল: অভিযোগ থাকলে তা খোলামেলা তদন্তের ব্যবস্থা থাকবে। আর্থিক লেনদেন থেকে শুরু করে খেলোয়াড় তালিকা—সবকিছু ডিজিটাল করা হচ্ছে। স্বচ্ছতা নিশ্চিত না করলে ফুটবল এগোবে না, এটাই আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।
প্রশ্ন: সমর্থকদের জন্য আপনার বার্তা কী?
তাবিদ আওয়াল: ফুটবল বাংলাদেশের আবেগ। আমি চাই সমর্থকরা ধৈর্য ধরে আমাদের পাশে থাকুক। পরিবর্তন রাতারাতি হয় না, তবে সঠিক পরিকল্পনা নিয়ে এগোলে বাংলাদেশ ফুটবল অবশ্যই ঘুরে দাঁড়াবে।