মেলবোর্ন, ৯ ডিসেম্বর- পূর্ব চীন সাগরে চীনের সামরিক মহড়াকে কেন্দ্র করে টোকিও ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা নতুন করে বেড়েছে। জাপান অভিযোগ করেছে, তাদের উপকূলের কাছাকাছি চীনা বিমানবাহী রণতরি লিয়াওনিং আক্রমণাত্মক মহড়া পরিচালনা করেছে এবং জাপানি নজরদারি বিমানের দিকে রাডার সংকেত পাঠিয়েছে।
জাপানের সেলফ ডিফেন্স ফোর্স জানায়, গত শনিবার লিয়াওনিং ওকিনাওয়া দ্বীপপুঞ্জের সন্নিকটে প্রশান্ত মহাসাগরে প্রবেশ করে। এরপর রণতরিটি প্রায় একশ উড্ডয়ন ও অবতরণের মহড়া চালায়। এই সময় চীনের যুদ্ধবিমান জাপানের পাঠানো পর্যবেক্ষণ বিমানের দিকে রাডার সংকেত পাঠায়, যা সম্ভাব্য হামলার সতর্কতা হিসেবে বিবেচিত হয়।
এই ঘটনাকে “বিপজ্জনক ও দুঃখজনক” আখ্যা দিয়ে পরদিন টোকিও চীনা রাষ্ট্রদূত উ জিয়াংহাওকে ডেকে কড়া প্রতিবাদ জানায়। অন্যদিকে চীনা দূতাবাস অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, বরং জাপানি বিমান লিয়াওনিংয়ের খুব কাছে গিয়ে মহড়া ব্যাহত করেছে। বেইজিং টোকিওকে ‘মিথ্যাচার’ বন্ধ করে সংযম দেখানোর আহ্বানও জানায়।
জাপান সরকারের মুখ্যসচিব মিনোরু কিহারা বলেন, চীনের অভিযোগ গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি জানান, জাপান শান্তভাবে হলেও দৃঢ় অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করবে এবং নিজেদের জলসীমায় চীনা বাহিনীর গতিবিধির ওপর নজর বাড়াবে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত গত মাসে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির বক্তব্যকে কেন্দ্র করে। তিনি সংসদে বলেছিলেন, তাইওয়ানকে ঘিরে চীনের কোনো সামরিক উদ্যোগ জাপানের নিরাপত্তাকে হুমকির মুখে ফেললে এর জবাব দেওয়া হবে। এর প্রতিক্রিয়ায় চীন তাদের নাগরিকদের জাপান ভ্রমণে সতর্ক করে এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থগিত থাকা জাপানি সামুদ্রিক খাবার আমদানি পুনরায় চালুর পরিকল্পনা পিছিয়ে দেয়।
তাইওয়ানকে নিজেদের অংশ হিসেবে দাবি করে চীন। দ্বীপটি ওকিনাওয়ার পশ্চিম প্রান্ত থেকে মাত্র ১১০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে। এই ভূরাজনৈতিক অবস্থানই অঞ্চলটিকে আরও সংবেদনশীল করে তোলে।
চীনের রাডার ব্যবহার বিষয়ে এখনো মন্তব্য করেনি মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা টোকিওতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস। তবে জাপানে মার্কিন রাষ্ট্রদূত জর্জ গ্লাস টোকিওর অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। এ বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখনও কোনও মন্তব্য করেননি। এপ্রিল মাসে তার বেইজিং সফরের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে বাণিজ্য ইস্যুতে আলোচনা হওয়ার কথা।